নদিয়া, নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একটি ঘর। দরজায় তালা তার উপর সিল। কিন্তু সেই বন্ধ দরজার ওপারে ঠিক কি রয়েছে, তা নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে কৌতুহল। মাসের পর মাস কেটে গেলও রহস্যের সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বুধবার সেই ঘরের চাবি চেয়ে কলেজ চত্বরে বিক্ষোভে বসলেন একদল পড়ুয়া। তাঁদের দাবি, বন্ধ দরজার আড়ালে থাকা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে হবে।
ঘটনার জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কৃষ্ণনগরের দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কলেজ। কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ বাণীব্রত গোস্বামীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার দুর্নীতি, তহবিল তছরূপ, এবং অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। গত ৫ জুন গভর্নিং বডি ও অধ্যাপকদের উদ্যোগে তাঁর অফিস ঘর এবং সার্ভার রুমে তালা দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছিল তদন্ত কমিশন।একইসঙ্গে, অধ্যক্ষের জন্য নিয়ম বহির্ভূত বিলাসবহুল বেডরুম তৈরির অভিযোগ ও সামনে আসে। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও সিল করা ঘরের ভেতরে কী রয়েছে তা প্রকাশ্যে না আসায় বুধবার, ৭ই অক্টোবর কলেজ চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন ছাত্রছাত্রীরা।আন্দোলনকারীদের দাবি, কোনও নিয়ম বা টেন্ডার প্রক্রিয়া না মেনে পড়ুয়াদের দেওয়া অর্থে ওই ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল।
বুধবার কলেজ অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কার্যকর্তা তথা আন্দোলনরত ছাত্রী রীমা শর্মা সহ কয়েকজন পড়ুয়া। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ঘরটি সিল থাকা সত্ত্বেও কোনো চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসেনি। আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের হাতে সিল করা ঘরের চাবি তুলে দিতে হবে। চাবি না দিলে অবস্থান বিক্ষোভ চলবে এবং প্রয়োজনে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। যদিও, কলেজ পড়ুয়াদের হাতে চাবি তুলে দিতে নারাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের বর্তমান টিচার-ইন-চার্জ ড. অর্চন নন্দী বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, ইতিমধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট গভর্নিং বডির সভাপতির যিনি স্থানীয় বিধায়ক, তাঁর কাছে জমা পড়েছে। তবে, সেই রিপোর্টে কী রয়েছে, তা এখনও প্রশাসনিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, পূর্ববর্তী গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ও নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও অবস্থাতেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বন্ধ ঘরের চাবি তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে সভাপতি ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের আইনের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার মাধ্যমে কোনও শান্তিপূর্ণ সমাধান সূত্র বেরিয়ে এলে, তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই মঙ্গলজনক হবে। অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে না নেওয়ায় তাঁরা তালা বন্ধ ঘরের সামনেই বিক্ষোভ আন্দোলনে বসে ধর্না দেন। ফলে, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং বন্ধ ঘরের সিল খোলা, এই দুই দাবিকে ঘিরে কলেজে ফের শুরু হয়েছে চাপা উত্তেজনা।
