একাধিক দাবি নিয়ে বামেদের মিছিল বেরিয়েছিল রাস্তায়। সামনে ছিল প্রশাসনের ব্যারিকেড। আর সেই মিছিলে একেবারে ধুমধুমার পরিস্থিতি বাঁকুড়ায়। পুলিশের বাধাকে অগ্রাহ্য করে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হলো বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে। জেলাশাসক দপ্তরের এলাকায় ঢুকে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। আন্দোলনকারীদের আটকাতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
১৫ দফা দাবিতে বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে দাবি তোলা হয় রাজ্যের সমস্ত মহিলা আবেদনকারী কে অন্নপূর্ণা যোজনা আওতায় আনা, ধান, আলু, পাট-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ন্যায্য সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা এবং একশো দিনের কাজ-সহ মোট ১৫ দফা দাবি তোলা হয় তাদের পক্ষ থেকে। জেলাশাসক দপ্তরের উদ্দেশ্যে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। শুধু বাঁকুড়া নয় রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে এই কর্মসূচি পালন করে বাম সংগঠন।
সোমবার বাঁকুড়ার হিন্দু স্কুল ময়দান থেকে মিছিল শুরু করেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। স্লোগান দিতে দিতে মিছিল এগিয়ে যায় জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে। আইজি মোড়ের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। তারপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। ব্যারিকেড সরিয়ে এগানোর চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। দু পক্ষের টানা পড়েনে মুহূর্তেই ধস্তাধস্তি পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে আন্দোলনকারীরা। শুরু হয় বিক্ষোভ ও স্লোগান।
পরিস্থিতি ক্রমাগতই হাতের বাইরে চলে যায়। তারপরেই জেলাশাসক দপ্তরের সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বাম কর্মী সমর্থকেরা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তলেন সিপিএম নেতৃত্ব। তাদের কথায় বর্তমান রাজ্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা কাজের কাজ হচ্ছে না। কোনো প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হচ্ছে না। অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে বহু মহিলা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
দু’পক্ষের অবস্থানে বাঁকুড়ার প্রশাসনিক চত্বরে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। একেবারে শোরগোল পড়ে যায় গোটা চত্বরে। দীর্ঘক্ষণ এই বিক্ষোভের ফলে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।