আর মাত্র একটি ম্যাচ জিতলেই ফুটবল বিশ্বে নতুন ইতিহাস লিখবেন লিওনেল মেসি। ২০১৪ সালে স্বপ্নভঙ্গ, ২০২২ সালে বিশ্বজয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বার দেশের হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বযুদ্ধের ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে নামছেন এলএম টেন। টার্গেট, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরও একবার সোনালী ট্রফি হাতে তোলা। তবে শুধু দলগত সাফল্যই নয়, সোমের মধ্যরাতে ব্যক্তিগতভাবেও একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে লিও'র সামনে।
ফাইনালের দিন মেসির বয়স হবে ৩৯ বছর ২৫ দিন। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে তিনিই হতে চলেছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামা ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার। পাশাপাশি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর বিশ্বের মাত্র দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার নজিরও গড়বেন তিনি। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে এই কীর্তি প্রথমবার কোনও অধিনায়কের ঝুলিতে উঠতে চলেছে, পিছনে পড়ে যাবেন দিয়েগো মারাদোনা।
ফাইনালে জয় পেলে আরও বড় ইতিহাস অপেক্ষা করছে মেসির জন্য। তিনি হবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক, যিনি দু'বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করবেন। একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ইতালির পর তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার নজির গড়তে পারে আর্জেন্টিনা।
চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই আটটি গোল করেছেন মেসি। ফাইনালে আর একটি গোল করলেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার হয়ে যাবেন। সেই সঙ্গে ভেঙে দিতে পারেন ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক ৮ গোলের ৯৬ বছরের পুরানো রেকর্ড। যদি ফাইনালে জোড়া গোল করেন, তবে এক বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোল করা বিশ্বের চতুর্থ ফুটবলার এবং ইউরোপের বাইরে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাবেন। এর আগে এই কৃতিত্ব রয়েছে জাস্ট ফোঁতেন, সান্দোর কশিস এবং গার্ড মুলারের।
স্পেনের বিরুদ্ধে গোল করতে পারলে আরও একটি বিরল ক্লাবে প্রবেশ করবেন মেসি। তিনি হবেন বিশ্বের ষষ্ঠ ফুটবলার, যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করবেন। ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। এই তালিকায় রয়েছেন ভাভা, পেলে, পল ব্রাইটনার, জিনেদিন জিদান এবং কিলিয়ান এমবাপে।
শুধু তাই নয়, ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও নিজের নামে করে নিতে পারেন মেসি। বর্তমানে এই নজির রয়েছে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনাল্ডোর করা ৮ গোলের। গত বিশ্বকাপ ফাইনালে করেছিলেন দুটি গোল। এবারও যদি জোড়া গোল করেন, তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বাধিক চার গোলের কিলিয়ান এমবাপের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর যদি হ্যাটট্রিক করেন, তাহলে পাঁচ গোল নিয়ে এককভাবে বিশ্বকাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নতুন ইতিহাস লিখবেন।