ভালোবাসা প্রকাশের ধরন এক একটা মানুষের এক এক রকম। কেউ ভালবাসা প্রকাশ করে ফুল দেন, কেউ আবার চকলেট, কেউ দামি দামি উপহার দিয়ে থাকেন। মোগল সম্রাট শাহজাহানও স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালবাসায় তৈরি করেছিলেন তাজমহল। এবার সম্রাট শাহজাহানের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে মধ্যপ্রদেশের এক ব্যক্তি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তাজমহলের অনুকরণে তৈরি করলেন আস্ত এক প্রাসাদ।
মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুরের বাসিন্দা আনন্দ প্রকাশ চোকসে। তার এই কাণ্ডে রীতিমতো হইহই রব উঠেছে। তিনি শাহজাহানের পথ অনুসরণ করেছেন ঠিকই। কিন্তু স্ত্রীর স্মৃতিতে নয়, স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
শাহজাহান তাজমহল তৈরি করেছিলেন ১৬৫৩ সালে। প্রায় ২১ বছর সময় লেগেছিল এটি তৈরি করতে। খরচাও হয়েছিল আনুমানিক প্রায় ৩ কোটি ২০লক্ষ টাকা। বর্তমান দিনে যার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার সমান। তবে আনন্দ প্রকাশ চোকসে ২০২১ সালে এই প্রাসাদ টি তৈরির উদ্যোগ নেন। বানাতে সময় লেগেছে মাত্র ৩ বছর।
সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে আনন্দ প্রকাশের ছেলে তাদের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। যা দেখে যে কেউ বলবে এ যেন হুবহু তাজমহল। আনন্দর তাজমহল তৈরি মাকরানা মার্বেল দিয়ে। অন্দরমহল রয়েছে চারটি স্বয়ং কক্ষ সহ বিলাসবহুল সামগ্রী। ইন্দোর ও পশ্চিমবঙ্গের কারিগরদের নিপুণতায় তৈরি এই বাড়ি নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে। তবে এটি বানাতে কত খরচ হয়েছে তা এখনো গোপন রেখেছে আনন্দের পরিবার।
হুবহু তাজমহলের আদলে তৈরি এই প্রাসাদটিতেও রয়েছে চারদিকে চার টি মিনার। শীর্ষে রয়েছে গম্বুজ। সামনের অংশ জুড়ে একাধিক খিলান রয়েছে। বাড়ির বিশাল প্রবেশপথে অপূর্ব কারুকার্য করা। পাশাপাশি খিলান দেওয়া দরজা নজর কেড়েছে সকলের। প্রাসাদটির উচ্চতা প্রায় ২৪ ফুট। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে মনে হবে যেন কোনো সিনেমার সেটে পৌঁছেছি। তবে আসল তাজমহলের তিনভাগের একভাগ এই নকল তাজমহল টি।