নিউজ ডেস্ক: চার দশকের পুলিশি ও প্রশাসনিক জীবনের ইতি টেনে এবার সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও। শনিবার ধর্মনগরী বারাণসীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘সর্বজন সনাতন পার্টি’।
নবগঠিত এই দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এই আইপিএস কর্তা। তাঁর সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন মহন্ত তীর্থানন্দ এবং রীতু রাঠৌর।
দীর্ঘ কর্মজীবনে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও কেন্দ্রীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সামলানোর পর এই পদক্ষেপকে জীবনের এক নতুন অধ্যায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন নাগেশ্বর। কাশীর মাটি থেকেই এই নতুন যাত্রার সূচনা করার বিষয়ে তিনি জানান, এটি কোনো আকস্মিক পদক্ষেপ নয়, বরং অত্যন্ত সচেতন ও ভাবা-চিন্তা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, দেশ গড়ার কাজে কেবল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার চৌহদ্দিতে বন্দি থাকলে চলে না, বৃহত্তর পরিবর্তন আনতে গেলে সক্রিয় রাজনীতির আঙিনায় নামা জরুরি। সেই তাগিদ এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই মঞ্চে টেনে এনেছে।
রাজনীতিতে নাম লেখালেও সনাতন ভাবধারাকে কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডিতে বাঁধতে নারাজ সিবিআইয়ের এই প্রাক্তন শীর্ষকর্তা। তাঁর দাবি, সনাতন স্রেফ আচার-অনুষ্ঠান বা উপাসনার মধ্যে আটকে থাকা কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। সত্য, ন্যায়পরায়ণতা, সংযম, দায়িত্ববোধ, প্রকৃতি ও সমাজের কল্যাণের ওপর ভিত্তি করেই এই ভাবনা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
নিজের দলের ঘোষিত রাজনৈতিক দিশা স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সভ্যতা ও ঐতিহ্যভিত্তিক যুগোপযোগী শিক্ষা, আধুনিক ও পরম্পরাগত পদ্ধতির মেলবন্ধনে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, যুবসমাজ ও প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং দেশের নিজস্ব ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে সভ্যতার শক্তির বিকাশ।
নাগেশ্বর রাওয়ের কথায়, তাঁদের লক্ষ্য দেশকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি ও মজবুত অর্থব্যবস্থার সঙ্গে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের সমন্বয় ঘটানো। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সনাতনকে স্রেফ নির্বাচনের হাতিয়ার করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়।
বিভাজনের পথ এড়িয়ে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা ধর্মের বিরোধিতায় না গিয়ে সব নাগরিকের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করাই তাঁদের দলের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সিবিআইয়ের তৎকালীন ডিরেক্টর অলোক বর্মা ও স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বেনজির সংঘাতের সময় সংস্থার অন্তর্বর্তী প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নাগেশ্বর।
তবে সেই স্বল্প মেয়াদে একাধিক বিতর্ক, আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি সারদা মামলার তদন্তের গতি শ্লথ করার মতো সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
