নিউজ ডেস্ক: একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মদন মিত্র। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মমতার সঙ্গে একাধিকবার দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। বর্তমানে মমতার শিবিরের বাইরে থাকা মদন মিত্র একের পর এক মন্তব্যে তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করছেন। এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন তিনি।
মদন মিত্রের বক্তব্যে একইসঙ্গে উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও। মদনের দাবি, রাজ্যে বর্তমানে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য আগের সরকারের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব রয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পাপের ঘড়া’ পরিষ্কার করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই তাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
এই ঘটনাকে সামনে রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক পুরনো বিষয় সামনে আসছে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সেগুলি প্রকাশ্যে আসছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করে মদন দাবি করেন, আগের সময়ের বিভিন্ন ‘পাপ’ বা বিতর্কিত বিষয় পরিষ্কার করার কাজ চলছে।
মদন মিত্রের এই মন্তব্য অবশ্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। পরবর্তীতে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং বর্তমানে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এর আগেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন মদন। এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আবহে তাঁর নতুন মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিল। বিশেষ করে একদিকে মমতাকে আক্রমণ এবং অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা—এই দুই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রার্থী, দলীয় প্রতীক এবং একাধিক রাজনৈতিক ঘটনার জেরে দুই কেন্দ্রেই প্রচারপর্বে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই আবহে মদন মিত্রের মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।