নদিয়া, কেয়া মণ্ডল: কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ ঘিরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, রাতের খাবার খাওয়ার পর আচমকাই তাঁকে সার্কিট হাউসের ঘর খালি করতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, রাতের অন্ধকারে সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির লোকজনকে জড়ো করে তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাংসদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি সার্কিট হাউসে পৌঁছন। আগে থেকেই প্রশাসনকে তাঁর আসার কথা জানানো হয়েছিল। সার্কিট হাউসে পৌঁছে তাঁকে তাঁর নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি রাতের খাবারও পান। এর কিছুক্ষণ পর রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে অতিরিক্ত জেলাশাসক তাঁকে ফোন করে ঘর খালি করার নির্দেশ দেন বলে দাবি সাংসদের। কেন ঘর ছাড়তে হবে জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, উপরমহলের নির্দেশেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এরপর রাত ১০টা ৫২ মিনিট নাগাদ হোয়াটসঅ্যাপে একটি নির্দেশ পাঠানো হয় বলে দাবি। সেখানে বলা হয়, ১৩ তারিখের আগে যে বুকিং হয়েছে তা বহাল থাকবে। কিন্তু ১৩ তারিখের পরে করা বুকিং কার্যকর হবে না। সাংসদ দাবি করেন, তিনি ১৪ তারিখ সার্কিট হাউসে উঠেছেন।
সাংসদের আরও অভিযোগ, সার্কিট হাউসে তখনও একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক ছিলেন। কোনও বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছিল না। ফলে হঠাৎ তাঁকে ঘর ছাড়তে বলার কারণ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপি কর্মীদের জমায়েত নিয়ে। সাংসদের দাবি, রাত ১১টা নাগাদ সার্কিট হাউসের গেটের সামনে বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে বাইরে বের করে ওই ভিড়ের হাতে তাঁকে হেনস্থার আশঙ্কা ছিল। গোটা ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সাংসদের দাবি, পুলিশ ওই জমায়েত সরানোর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। অভিযোগ,তাঁকে কৃষ্ণনগরে আসা থেকে আটকাতেই পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। বিজেপির কর্মীদের ক্যামেরায় তাঁকে হুমকি দিতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
যদিও সাংসদের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা পুলিশের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। গোটা বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছেন। মহিলা সাংসদদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হন মহুয়া। তিনি দাবি করেন, সরকারি অতিথিশালায় তাঁর ঘর বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে তাঁকে বেরিয়ে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, সার্কিট হাউসের বাইরে একটি ভিড় জড়ো হয়ে তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে স্লোগান দিচ্ছিল।