নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের কয়েক দিনের মধ্যেই এ বার নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক ড. সীমা খন্নার বিরুদ্ধে থানায় গেলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সীমা খন্নার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। মহুয়ার দাবি, ভোটার তালিকা তৈরির সফ্টওয়্যার ব্যবস্থাপনা এবং ভোটারদের নাম সংযোজন-বিয়োজনের প্রক্রিয়ায় সীমার ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে বিষয়টি জানান মহুয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অভিযোগটি খতিয়ে দেখে এফআইআর করা যায় কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। মহুয়া জানিয়েছেন, বিষয়টির অগ্রগতি জানতে তিনি ৬ অক্টোবর ফের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন। অর্থাৎ আপাতত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এফআইআর হয়েছে এমন দাবি এখনও করা হয়নি।
এই অভিযোগের পেছনে রয়েছে ভোটার তালিকার ‘সেন্ট্রালাইজেশন’ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ‘ECINet’ ব্যবস্থায় ভোটার তালিকার কাজ আরও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হওয়ার ফলে রাজ্য ও মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী আধিকারিকদের কিছু ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোয়ার ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি ঘটনায় ৯৭ জন ভোটারকে তাঁদের সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকরা যোগ্য বলে বিবেচনা করলেও, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফেরানোর ক্ষেত্রে সফ্টওয়্যার সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এই ৯৭ জনের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দিল্লির নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক বার যোগাযোগ করেছিল। পরে নির্বাচন কমিশনের এক ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারও সীমা খন্নাকে লেখা বার্তায় সফ্টওয়্যার যাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও ওই ৯৭ জনের নাম তালিকায় দেখা যায়নি বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
এই ঘটনাকেই সামনে রেখে সীমা খন্নার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন মহুয়া। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অভিযোগগুলি মহুয়া মৈত্রের করা অভিযোগ এবং সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উঠেছে; সীমা খন্নার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনও আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ডিরেক্টরিতেও সীমা খন্নাকে বর্তমানে ‘Director General (IT)’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন মহুয়া। সেই অভিযোগে তিনি ভোটার তালিকার সংশোধন এবং ‘SIR’ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এফআইআর করে তদন্তের দাবি জানান। পুলিশ সেই সময়ও অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করার বিষয়ে আইনি দিক খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল।
মহুয়ার অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী বিতর্কে বলা হয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। ফলে অভিযোগ, তদন্ত এবং কমিশনের অবস্থান, এই তিনটি দিকই এখন আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সীমা খন্নার বিরুদ্ধে মহুয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে এখন মূল নজর ৫ অক্টোবরের মধ্যে পুলিশের সিদ্ধান্ত এবং ৬ অক্টোবর মহুয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এফআইআর দায়ের হবে কি না, হলে কোন ধারায় তদন্ত শুরু হবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
