কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সিউড়ির জেলা তৃণমূল ভবনে ঢুকে অনুব্রত মণ্ডলকে আঙুল তুলে শাসানি, কাঁচের টেবিল ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পার্টি অফিসের ভিতরে অনুব্রত মণ্ডলের চোখের সামনেই চলল তাণ্ডব। এবার এই ঘটনায় মুখ খুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন, চেষ্টা করছি আস্তে আস্তে কতটা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া যায়। কারণ, যত দিন যাচ্ছে রাজনীতির উপর ঘৃণা ছাড়া আর কিছু বাড়ছে না। রাজনীতি এখন দুর্বৃত্তদের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।'
ঘটনাটি ঘটে সিউড়ির পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। বুধবার ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রথম বার সেখানে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার সময় আচমকাই কয়েক জন যুবক হাতে মোটা গাছের ডাল ও লাঠি নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে পরে পুলিশ আটক করে। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা চেয়ার, টেবিল, কাচের সামগ্রী এবং বাতানুকূল যন্ত্রে ভাঙচুর চালানো হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনুব্রতের সামনের কাচের টেবিলেও আঘাত করা হয়।
বুধবারের ঘটনায় আকাশ দেবনাথ, বান্টি বীরবংশী এবং ঋষভ গোর নামে তিন যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। তাঁদের তিন জনেরই বাড়ি সিউড়ির হাটজন বাজার এলাকায়। পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, রাতেই তিন জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কারণ, অনুব্রতদের তরফে তো বটেই, এই ঘটনায় পুলিশের তরফেও কোনও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়নি।
তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা বিজেপি-ঘনিষ্ঠ। তাঁর দাবি, অনুব্রত শুধু তাঁদের দলের নেতা নন, তিনি একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক; তাঁর উপর হামলা নিন্দনীয়। অন্য দিকে, বীরভূমের তৃণমূল নেতা কাজল শেখ ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘অনুব্রতর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। সেটা ফিরে পেতেই তিনি এই ঘটনা সাজিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন ওই যুবকরা হামলা চালাচ্ছিল, তখন চেয়ারে বসে অনুব্রত হাসচ্ছিলেন কেন'?
একসময়ের দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের 'বাঘ' বলেও একসময় সম্মোধন করা হত। জেলার রাজনীতিতে তাঁর কম দাপট ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে চমকানি-ধমকানোর মতো নানা অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার সেই অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই অবাধে তাণ্ডব চলল। যা নিয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
