নয়াদিল্লি: INDIA জোটের বৈঠক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোটের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত আপত্তি বা ‘ইগো’ নেই। কংগ্রেস যদি সেই পদ দাবি করে এবং জোটের সব শরিকের সম্মতি থাকে, তাহলে তা নিয়ে তিনি আপত্তি করবেন না বলেই বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, INDIA জোটের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী মুখ কে হবেন, এই প্রশ্নটি জোটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মমতার এই বক্তব্যকে সরাসরি রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থিতা সমর্থন হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এমন কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বরং মমতা জোটের শরিকদের সম্মতির উপর জোর দিয়েছেন।
বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে পাল্টা জানান, কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী পদ বা ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে না; তাদের লক্ষ্য দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষা করা। ফলে মমতার বক্তব্যের পরও প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে INDIA জোটের কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ। INDIA জোটের একাধিক দল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিও জানিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত বৈঠকে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, বাম দল, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) সহ একাধিক বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলগুলির মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। কেরলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, সেখানে কংগ্রেস ও বাম দল পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়লেও জাতীয় স্তরে বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব। অর্থাৎ রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখার বার্তাই তিনি দিয়েছেন বলে উঠে এসেছে।
SIR প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তিনি নিজেকে এই প্রক্রিয়ার ‘বিগেস্ট সাফারার’ বা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী বলেন, শুধু বিরোধী দল নয়, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তেজস্বী যাদব-সহ কয়েকজন বিরোধী নেতাও মমতার বক্তব্যের সমর্থনে কথা বলেন।
বৈঠকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র নেতা উদ্ধব ঠাকরে তাঁর দলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। জম্মু-কাশ্মীরের নেতা ওমর আবদুল্লাও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। একইসঙ্গে বিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সমাজবাদী পার্টির নেতারাও।
বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলি আগামী দিনে যৌথ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে। ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’ করার পরিকল্পনা এবং ৬ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিলের কর্মসূচির কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনও ইগো নেই’ মন্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর বিরোধী ঐক্যের বার্তা, দুই ঘটনাই INDIA জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মুখ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
