এশিয়ার বৃহত্তম ফুল বাজার মল্লিক ঘাট। এই ফুল বাজার গোটা বিশ্বের বিখ্যাত। এবার এই মল্লিক ঘাট ফুল বাজারকে বিশ্বমানের ফুল বাণিজ্যে পরিণত করার পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই তার রূপরেখা প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। শতাব্দি প্রাচীন এই ফুল বাজার। হাওড়া ব্রিজের নিচে গঙ্গার তীরে অবস্থিত। এই ফুল বাজারকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আগামীদিনে এখানে তৈরি হবে আধুনিক পরিকাঠামো, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, উন্নত বিপণন ব্যবস্থা ও রপ্তানির সুযোগ। এর ফলে ফুল চাষীদের আয় যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যাবে পশ্চিমবঙ্গের ফুল।
প্রতিদিন রাত তিনটে থেকেই এই ফুলবাজারে বেচাকেনা শুরু হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই জমজমাট হয়ে ওঠে এই বাজার। প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ১২ থেকে ১৫ হাজার ফুল চাষী এই বাজারে ব্যবসার কাজে আসেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ফুলের বাজার এটি। বহু মানুষের রুটি রুজি জড়িয়ে রয়েছে এই মল্লিক ঘাট ফুল বাজারের সঙ্গে।
তবে বর্তমানে এই বাজারে আসা ফুল ব্যবসায়ীদের একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সংকীর্ণ রাস্তা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, সমিতির অচলাবস্থা সবমিলিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। একাধিকবার পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তাই এবার তাদের দিকে নজর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
সম্প্রতি রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালনমন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাজারের আধুনিকীকরণ, ফুল সংরক্ষণ, বিপণন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, পশ্চিমবঙ্গে দেশি ফুলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ফুলের চাষ বৃদ্ধি হচ্ছে। তাই রপ্তানি যোগ্য ফুলের উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের মধ্যে প্রধান ফুল উৎপাদন ও রপ্তানিযোগ্য রাজ্যে পরিণত করার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।
ইতিমধ্যেই এ-বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সেখান থেকেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীদিনে সরকারের সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপকৃত হবেন ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীরা।