নিউজ ডেস্ক, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। বাংলাদেশের একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার অভিযোগ ঘিরেই এই গ্রেপ্তার বলে জানা যাচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে অভিযান চালিয়ে পিয়ার মহম্মদ শেখ নামে ওই ইমামকে আটক করেন তদন্তকারীরা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
NIA সূত্রে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পিয়ার মহম্মদ শেখের বাড়ি মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে ইমামের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে তাঁর নিয়মিত বাংলাদেশ যাতায়াতের বিষয়টিও। স্থানীয়দের দাবি, শুধু যাতায়াতই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন। মসজিদ কমিটির সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে মোট প্রায় ছয় মাস বাংলাদেশে কাটিয়েছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ থেকে ফিরে ফের মসজিদের দায়িত্ব নেন।
মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে NIA-এর চার সদস্যের একটি দল পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে পৌঁছয়। সেখানেই ইমামের থাকার ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ডায়েরিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। সেই নম্বরগুলির সঙ্গে অভিযুক্তের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মসজিদ থেকে পিয়ার মহম্মদ শেখকে নিয়ে যাওয়া হয় মঙ্গলকোট থানায়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, থাকলে সেই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে কোনও নেটওয়ার্ক বা সহযোগী রয়েছে কি না—এই প্রশ্নগুলিই এখন তদন্তের কেন্দ্রে বলে জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইমাম হিসেবে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল। ফলে NIA-এর হাতে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত স্থানীয়রা। মসজিদ কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তাফা এবং স্থানীয় বাসিন্দা মনি কাজিরাও তাঁর বাংলাদেশ যাতায়াতের কথা জানিয়েছেন। তবে সেই যাতায়াতের সঙ্গে কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডের যোগ ছিল কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
তদন্তকারীরা এখন বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ফোন ও ডায়েরির তথ্য খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের যে ফোন নম্বরগুলি পাওয়া গিয়েছে, সেগুলির সঙ্গে অভিযুক্তের যোগাযোগের ধরন এবং কথোপকথনের বিষয়বস্তু তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পিয়ার মহম্মদ শেখের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। NIA-এর তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী প্রমাণ পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের অভিযোগ কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
