কয়েকদিন পরেই পার্লামেন্টে বসছে বাদল অধিবেশন। তার আগেই আইন প্রণয়নে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিল কেন্দ্র। লোকসভার সচিবালয়ের জারি করা বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আসন্ন অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ, আলোচনা এবং পাশ করানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল জাতীয় সম্মানের অবমাননা (সংশোধনী) বিল, যার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের আইন সংশোধন করে সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
লোকসভার বুলেটিন অনুযায়ী, আপাতত পাঁচটি বিলকে আলোচনা ও পাশের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ (সংশোধনী) বিল, যেখানে নির্ধারিত সময়ের পরে জন্ম বা মৃত্যুর নথিভুক্তির ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমইতে উন্নয়ন, আয়কর আইন সংশোধন এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়াও সরকারের নজরে রয়েছে বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল। এই বিলে ইউজিসি, এআইসিটিই-সহ উচ্চশিক্ষার একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তে একটি একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। যদিও বিলটি এখনও যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আপত্তির জেরে জেপিসির রিপোর্ট চূড়ান্ত করার নির্ধারিত দিন ১৭ জুলাই থেকে পিছিয়ে ২০ জুলাই করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলও এই অধিবেশনেই পাশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
অন্যদিকে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সাংসদদের জন্য কড়া আচরণবিধি জারি করেছে লোকসভার সচিবালয়। নতুন নির্দেশিকায় প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, বিক্ষোভ, সংসদ চত্বরে ধরনা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন, ধর্মীয় আচার পালন, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি বা অবমাননাকর পোস্টার ও স্লোগান ব্যবহারের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংসদের গেটের সামনে কোনও ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিও করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।