নয়াদিল্লি: ব্রিক্স সম্মেলনের মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একসঙ্গে দেখা গেল। করমর্দন, হাসি এবং পারস্পরিক উষ্ণতার একাধিক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপড়েনের মধ্যে এই ছবিগুলিই এখন কূটনৈতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে।
রবিবার শেষ হয়েছে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিক্স সম্মেলন। ভারতের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ১১টি দেশের রাষ্ট্রনেতারা অংশ নেন। সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে। তবে মোদী, পুতিন এবং শি-র একসঙ্গে উপস্থিতির ছবি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
ব্রিক্স সম্মেলনের শুরুতেই পুতিনের সঙ্গে উষ্ণ মুহূর্তে দেখা যায় মোদীকে। দুই নেতার করমর্দন এবং হাসিমুখে কথোপকথনের ছবি সামনে আসে। তাঁদের বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ কর্মী বিনিময় এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের পর মোদী এবং পুতিন একসঙ্গে গাড়িতে করে ভারত মণ্ডপমে যান। এই দৃশ্যও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে তামিল ভাষার প্রাচীন গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দেন।
অন্য দিকে, সাত বছর পর ভারতে আসা শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও মোদীর একাধিক উষ্ণ মুহূর্ত দেখা যায়। মোদী, শি এবং পুতিনকে একসঙ্গে হাত ধরে হাসতে দেখা যায় এমন ছবিও সামনে এসেছে। ভারত-চিন সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ছবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে দুই দেশ সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে একাধিক দফায় আলোচনা চালিয়েছে। ব্রিক্সের ফাঁকে মোদী-শি বৈঠকেও সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থার গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও মোদীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সামনে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে। মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং গ্লোবাল সাউথের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গেও কথা বলেন মোদী। ব্রিক্সের এবারের সম্মেলনে ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পরস্পর ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলির উপস্থিতি থাকায় ঐকমত্য তৈরি করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্রিক্স এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চ নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিশ্ব প্রশাসনে উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা বাড়ানোর প্রশ্নে সংগঠনটির গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আর সেই মঞ্চেই মোদী-শি-পুতিনের হাসিমুখে একসঙ্গে দাঁড়ানোর ছবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে,ব্রিক্স কি সত্যিই পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্প মঞ্চ হয়ে উঠছে? ছবির রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আলোচনা চলবে, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট,দিল্লির ব্রিক্স সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।