বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ আলোটুকু পুরোপুরি কেড়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্লে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হারলেও শনিবার রাতটা শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল ফরাসি অধিনায়কের। টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন সেমিফাইনালেই ভেঙেছিল। তৃতীয় স্থানের লড়াইও জেতা হল না। তবু বিদায়ের আগে নিজের নাম তুলে দিলেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে। হারের হতাশার মাঝেও গোলের সিংহাসনে বসেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানালেন এমবাপ্লে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল ফ্রান্সের কাছে দুঃস্বপ্ন। প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করে কার্যত ম্যাচের বাইরে চলে যায় তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে ৪ গোল খেল ফরাসিরা। কিন্তু বিরতির পর যেন অন্য রূপে ফিরলেন এমবাপ্লে। ৪৮ মিনিটে তাঁর গোলেই প্রত্যাবর্তনের আশা জাগে। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ২১তম গোল। যা তাঁকে লিওনেল মেসির পাশে বসিয়ে দেয় সর্বোচ্চ গোলের তালিকায়। যদিও ইংল্যান্ডের আক্রমণ থামানো যায়নি। ফ্রান্সের লড়াইয়ের মুখ হয়ে ওঠেন অধিনায়কই।
তার পরেই এল ইতিহাসের মুহূর্ত। ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ২২-এ পৌঁছে দেন এমবাপ্লে। মাত্র ২২টি ম্যাচে ২২ গোল। ম্যাচপিছু একটি করে গোলের অবিশ্বাস্য নজির গড়লেন তিনি। তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন ফরাসি তারকা। যেখানে মেসির ২১ গোল এসেছে ৩৩টি ম্যাচে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা এবং ২০২২ সালে রানার্স হওয়ার পর ২০২৬-এ ট্রফি না এলেও ব্যক্তিগত কীর্তিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের জায়গা আরও উজ্জ্বল করলেন এমবাপ্লে।
পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপেও গোলের দৌড়ে সবার উপরে শেষ করলেন এমবাপ্লে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে জোড়া গোল করে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০। ফলে ফাইনালে হ্যাটট্রিক না করলে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় মেসির পক্ষে। অন্য দিকে, জয়ী ইংল্যান্ডের জার্সিতেও গড়া হল নতুন রেকর্ড। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোলটি করেন জুড বেলিংহ্যাম। এক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক গোলের নজির ভেঙে পিছনে ফেলে দিলেন হ্যারি কেন ও গ্যারি লিনেকারকে। তবে গোলবন্যার সেই রাতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এক জনই। তিনি এমবাপ্লে।