নিউজ ডেস্ক: নিয়মের তোয়াক্কা না করে স্রেফ ক্ষণিকের উল্লাস আর বেপরোয়া রোমাঞ্চের খোঁজে কীভাবে নিজের ও অন্য বন্ধুদের জীবন বিপন্ন করা যায়, উত্তরপ্রদেশের মীরাট থেকে সামনে আসা একটি ঘটনাই তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছে একটি দৃশ্য। যা ফের একবার আঙুল তুলল পথ নিরাপত্তা ও কিশোরদের ট্র্যাফিক সচেতনতার কঙ্কালসার অবস্থার দিকে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ফুটেজে দেখা যায়, আবাসিক এলাকার অলি গলি ধরে প্রচণ্ড গতিতে এগিয়ে চলেছে একটি সাধারণ পেট্রোল চালিত মোটরবাইক। সচরাচর দুই চাকার এই যানে চালক ছাড়া আর একজনের সওয়ার হওয়ার আইনি অনুমতি থাকে , কিন্তু এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো এক চিত্র। স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত একদল কিশোর এমনভাবে একে অপরকে জড়িয়ে বাইকে ঠাসাঠাসি হয়ে উঠেছে যে দেখে মনে হতে পারে কোনো বিপজ্জনক সার্কাস দলের মহড়া চলছে। এক পড়ুয়া জায়গা পায়নি সিটে। সিটে জায়গা না পাওয়ায় সেই পড়ুয়া দাঁড়িয়ে বা বসে রয়েছে সতীর্থের কাঁধের ওপর ভর দিয়ে! পিঠের ভারী স্কুলব্যাগ আর আরোহীদের ওজনের ভারসাম্য সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ঘটতে পারত এক বিধ্বংসী বিপর্যয়।
মর্মান্তিক বিষয় হল, গোটা দলটির কারও শরীরেই ন্যূনতম সুরক্ষাকবচ বা হেলমেটের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। পথচলতি অন্য যানবাহনের পাশ দিয়ে যখন বাইকটি তীব্র বেগে মোড় নিচ্ছিল, তখনও আরোহীদের আচরণে ছিল চূড়ান্ত নির্বিকার ভাব। ক্যামেরার সামনে আবার কায়দা করে গতি বাড়িয়ে দিচ্ছিল যুবকের দল। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো চিন্তা বা বিপদের ভয়ডর নেই তাদের মধ্যে। সামাজিক মাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই অভিভাবকদের একাংশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ফেটে পড়েছে। অনেকেরই ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, দিনদুপুরে একটি ব্যস্ত জনপদে ট্র্যাফিক পুলিশের চোখের আড়ালে কীভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন কাণ্ড চলতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে চটজলদি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বন্ধুদের মধ্যে আলগা বাহাদুরি জাহির করার এই মানসিকতা কমবয়সিদের এক অন্ধকার অন্ধগলিতে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিপজ্জনক প্রবণতা রুখতে হলে কেবল মোটা অঙ্কের জরিমানা বা কড়া আইনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিবার ও শিক্ষাঙ্গন থেকে ধারাবাহিক নজরদারি। সেই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট যানের মালিক ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি।
