বিশ্বকাপের ঘটনায় ফের আলোচনায় কলকাতার 'মেসি-কাণ্ড'। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে কাবো ভার্দের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সেই ম্যাচ জয়ের পর প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে মিশরকেও হারিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেছেন মেসিরা। এ দিকে এরই মধ্যে ভাইরাল হল কাবো ভার্দে ম্যাচে এল এম টেন এবং আফ্রিকার দলটির ডিফেন্ডার রবের্তো লোপেজের একটি ছোট্ট কথোপকথন। যেখানে লিও সরাসরি তাঁকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেছিলেন বলে জানাচ্ছেন লোপেজ।
লোপেজ জানিয়েছেন, ম্যাচ চলাকালীন নিছক কৌতূহলবশতই মেসিকে হালকা ধাক্কা দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, এত কাছ থেকে মেসিকে দেখে যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কিন্তু সেই আচরণ ভাল চোখে দেখেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। লোপেজের দাবি, মেসি তাঁকে বলেন, ‘‘এটা ফাউল। এখানে বল নেই। এ ভাবে আমাকে ছুঁতে পার না। আমাকে এ ভাবে স্পর্শ করবে না।’’ প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, প্রতিপক্ষকে মানসিক ভাবে বিভ্রান্ত করারই চেষ্টা করছেন মেসি।
তবে বিরতির সময় ছবিটা বদলে যায়। লোপেজ নিজেই মেসির কাছে গিয়ে জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ফাউল করা নয়। শুধু একবার ছুঁয়ে দেখা। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি তাঁর কাছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। সেই কথার অর্থ বুঝেছিলেন মেসি। ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে দু'জনের মধ্যে হাত মেলানোও হয়। মাঠের উত্তেজনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
মেসিকে সামনে থেকে দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা অকপটেই স্বীকার করেছেন লোপেজ। এ দিকে এই ঘটনাই মনে করিয়ে দিচ্ছে গত ডিসেম্বরের কলকাতাকে। রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসির কোমরে এবং কাঁধে হাত দিয়েছিলেন। এ দিকে লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতিতে পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোমরে হাত দেওয়াকে খারাপ স্পর্শ গণ্য করা হয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই সে বিষয়ে বিধাননগর পুলিশের কাছে ইমেইলে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে খোদ টিম মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যাপারটা সে রকম না ঘটলেও ফের যেন উস্কে দিল কলকাতার 'মেসি-কাণ্ডে'র স্মৃতি।