নাবালক পড়ুয়াদের টাকা দিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলো শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর। এবার নাবালক পড়ুয়াদের টাকা দিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে আরো এক বড় সাফল্য পুলিশের। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসা ধৃত কলেজ পড়ুয়া কিংশুক মুখোপাধ্যায়কে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করেছে দুর্গাপুর পুলিশ। বুধবার রাতে গোপন সুত্রে খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে দুর্গাপুর নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক দুর্গাপুরের আড়া শিবতলা সংলগ্ন একটি বেসরকারি কলেজের পড়ুয়া। তার বাড়ির নিউ টাউনশিপ থানার স্টিল পার্ক এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, ইস্পাতনগরীতে নাবালক পড়ুয়াদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করার যে চক্রের হদিস পাওয়া গিয়েছে, ওই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাথা এই পড়ুয়া।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৮ বছরের কম বয়সী পড়ুয়াদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে বেআইনিভাবে রক্ত নেওয়া হত। এমনকি, এও জানা গিয়েছে রক্তদানের সময় বয়স নিয়ে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেই জন্য পড়ুয়াদের আধার কার্ডে কারচুপি করে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নথিপত্রে এই ধরনের কারচুপি করার কাজে এই ধৃত কলেজ পড়ুয়ার ভূমিকা ছিল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের সূত্র ধরে মূল অভিযুক্তের সন্ধান শুরু হয়। দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের একটি স্কুলের কয়েকজন ছাত্রের অভিভাবকের অভিযোগের পরে গোটা বিষয়টি সামনে আসে। তাদের অভিযোগ ছিল নাবালক পড়ুয়াদের টাকার বিনিময়ে রক্ত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সের আগে রক্তদান করা যায় না। কিন্তু, প্রশ্ন এই নিয়ম এড়ানো হয়েছিল কিভাবে? ধৃত পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নাবালকদের কিভাবে চিহ্নিত করা হত, অর্থের ব্যবস্থা কোথা থেকে হত এবং এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে এর পিছনে বড় কোনো চক্র কাজ করেছিল কিনা, সেই প্রশ্নও তদন্তকারীদের সামনে।