ভারত পাকিস্তান ভাগাভাগির পর থেকে একে অপরের শত্রু হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সীমান্তে বাড়ছে উত্তাপ। একদিকে কাশ্মীর, অন্যদিকে এলাকা দখল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। তবে এবার এই বিদ্বেষ নিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের গলায় অন্য সুর। তার মতে, দ্বন্দ্ব শেষ করার সমাধান অন্যকে পরাস্ত করা নয়। বরং সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের উপরে ভিত্তি করে সমস্যার সমাধান খুঁজে বার করা।
ইতিমধ্যে দেখা গিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতাও বেশি রয়েছে। এরই মাঝে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন আরএসএস প্রধান। সম্প্রতি মুম্বইতে গিয়ে শত্রু দেশ পাকিস্তানকে নিয়ে তিনি বলেন পাকিস্তানি মানেই তাঁরা ‘সব দিক থেকে’ ভারতীয়দের শত্রু নয়। ভাগবত মনে করছেন, ‘স্থায়ী শত্রুতা’ কোনও কিছুর সমাধান হতে পারে না। দুই দেশের মধ্যে আপৎকালীন সমঝোতা এবং সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন মোহন ভাগবত। একই সঙ্গে চিনের সঙ্গেও সম্পর্ক ভাল করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শত্রুর সঙ্গে শত্রুতা নয় বরং সমন্বয়ের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান খোঁজা একমাত্র সমাধানের পথ। ভারত এবং পাকিস্তান প্রসঙ্গে অন্য মত আরএসএস প্রধান এর। সংঘচালক বলছেন, 'দেশে যখন কোনো সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে আমাদের উচিত দেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়ানো। তবে চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব বা বিচ্ছেদ কোনোটাই কাম্য নয়।'
প্রসঙ্গত, জঙ্গি মোকাবিলা কিংবা অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলায় বেশি প্রাণহানি ঘটে সাধারণের। শুধু ভারত নয়, পাকিস্তানেও মৃত্যু হয় বহু মানুষের। মোহন ভাগবতের স্পষ্ট বার্তা, সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বৃহত্তর মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর মতে কখনও কোনও দেশের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে সাময়িকভাবে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হতেই পারে। তবে সেই ঘৃণা চিরস্থায়ী শত্রুতা বা বিচ্ছেদ টিকিয়ে রাখা ঠিক নয়। পাক প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, 'পাকিস্তান তো ভারতেরই অংশ ছিল। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।'
সরসংঘপ্রধানের এই অবস্থান বর্তমান সরকারের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। মোদি সরকারের স্পষ্ট অবস্থান, সন্ত্রাস এবং আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। বস্তুত মোদি জমানায় বার বার ভারতকে রক্তাক্ত করার ছক কষেছে পাকিস্তান। একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে ভারতে। পুলওয়ামা, পাঠানকোট, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কোনওরকম আলোচনার পথেই যেতে নারাজ মোদি সরকার। সেখানে আরএসএস প্রধানের সুর খানিকটা অন্যরকম।
এই ঘটনাটা ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। আগামীদিনে কি তাহলে মোদি সরকারও পাকিস্তান নীতিতে মত বদল করবে? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার সুর বদলেছে পাকিস্তান। নিয়ম ভেঙেছে বিভিন্ন কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও। বিভিন্ন সময় আত্মঘাতী হামলা, জৈশ সহ একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দেওয়া পাকিস্তানের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এবার তাই নরম সুরে মোহন ভাগবতের বক্তব্য ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।