ডার্বির আগে প্রশ্ন ছিল অনেক। উত্তর দিল মোহনবাগান। মরশুমের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সমর্থকদের আপত্তি, প্রস্তুতির অভাবে চোটের আশঙ্কা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সব কিছুর মধ্যেই শনিবাসরীয় যুবভারতীতে শেষ হাসি হাসল সবুজ-মেরুন বাহিনীই। সাহাল আবদুল সামাদের একমাত্র গোলে ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচ জিতে নিল মোহনবাগান।
মাঠের বাইরেও ছিল অন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। যন্তর মন্তরের আন্দোলনের ঢেউ যখন কলকাতাতেও ছড়িয়ে পড়েছে, তখন নিরাপত্তা ঘিরে উদ্বেগ ছিল যথেষ্ট। সেই পরিস্থিতিতেও নির্বিঘ্নে ডার্বি আয়োজন করে প্রশংসার দাবিদার কলকাতা পুলিশ। ২০২৪ সালে আরজি কর কাণ্ডের জেরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ডুরান্ড ডার্বি বাতিল করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এ বারের সফল আয়োজন নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা দেবে আয়োজকদের।
ম্যাচের চিত্র অবশ্য স্পষ্ট করে দিল, দুই নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস ও আন্তোনিও হাবাসের হাতে প্রস্তুতির সময় খুবই কম ছিল। বিদেশিহীন প্রথম একাদশ নিয়ে নামা দুই দলই ছন্দ, ফিটনেস ও বোঝাপড়ার অভাবে ভুগেছে। বল দখল ও আক্রমণে মোহনবাগান এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে বড় সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। তবে ২৪ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের শট জিকসন সিংয়ের হাতে লাগলেও পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। ৫২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে কিয়ান নাসিরির তৈরি করা আক্রমণ থেকে মনবীর সিংয়ের স্পর্শে বল পৌঁছে যায় সাহালের সামনে। ফাঁকা জাল পেয়ে কোনও ভুল করেননি ভারতীয় মিডফিল্ডার। তাঁর একমাত্র গোলেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। মরশুমের প্রথম ডার্বিতে সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
গোল খাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। হাবাস মাঠে নামান মহম্মদ রশিদ ও পিভি বিষ্ণুকে। শেষ দিকে নুঙ্গা, রশিদদের একের পর এক শট সামলে কার্যত প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর একাধিক দুরন্ত সেভেই শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি লাল-হলুদ। মরশুমের প্রথম ডার্বিতে তাই জয়, তিন পয়েন্ট এবং মানসিক লড়াই, সবই নিজেদের দখলে রাখল মোহনবাগান।