কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: নাটক আর উত্তেজনায় ভরা এক অবিশ্বাস্য লড়াই। এক কথায়, পরীক্ষাটা ছিল স্নায়ুর। আর সেই পরীক্ষায় শেষ হাসি হাসল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। জামশেদপুর এফসিকে টাইব্রেকারে ৯-৮ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল সবুজ-মেরুন বাহিনী। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষ হয় ১-১ গোলে। তার পর পেনাল্টি শুটআউট গড়ায় সাডেন ডেথে। একের পর এক পেনাল্টি জালে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত জামশেদপুরের লমসাংজুয়ালার শট বাঁচিয়ে দেন মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। পরের কিকেই টেকচাম অভিষেক সিং গোল করে শেষ চারে তুলে দেন দলকে।
ম্যাচের শুরুতেই যেন ঝড় তুলেছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। প্রণয় হালদারের পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি রাশিথই মেইতেই। সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন সাহাল আব্দুল সামাদ। বক্সে ঢুকে নিচু শটে জামশেদপুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। দ্রুত গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় মোহনবাগানের। প্রথম দিকে আক্রমণের ঝড়ও তোলে তারা। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে জামশেদপুর। ১৫ মিনিটের পর থেকে বলের দখল বাড়িয়ে গোলের রাস্তা খুঁজতে থাকে তারা।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন রাশিথই। বিশাল কাইথ সেই শট পুরোপুরি আটকাতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে দেন দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর। ১-১ হয়ে যায় ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই আক্রমণে উঠলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপায় মোহনবাগান। সংযুক্ত সময়ে দূরপাল্লার শটে সায়ানও জামশেদপুরের গোলরক্ষক আলবিনোকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি।
নির্ধারিত সময় শেষ হতেই শুরু পেনাল্টি নাটক। শুটআউটে দু’দলের প্রথম ১৬টি শটই জালে জড়ায়। ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে দু'দল চোখে চোখ রেখে লড়লেও ভাগ্যের চাকা শেষ পর্যন্ত ঘুরে যায় মোহনবাগানের দিকে। জামশেদপুরের লমসাংজুয়ালার শট আটকে দেন কাইথ। সেই মুহূর্তে মোহনবাগানের সামনে জয়ের দরজা খুলে যায়। চাপ সামলে টেকচাম অভিষেক সিং বল জালে পাঠাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। ৯-৮ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন।
সেমিফাইনালে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ হবে শিলং লাজং এফসি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ম্যাচের বিজয়ী দল। তবে শেষ চারে যাওয়ার পথটা যে একেবারেই সহজ ছিল না, তা এই ম্যাচের ১-১ স্কোরলাইন এবং দীর্ঘ পেনাল্টি শুটআউটই বলে দিচ্ছে। গোলের শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত কাইথের সেভ এবং অভিষেকের ঠান্ডা মাথার পেনাল্টিই পার্থক্য গড়ে দিল।