রহস্যমৃত্যু বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়কের! বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে মৃতদেহ উদ্ধার। ঘটনাটি আজ (১৬ই অগাস্ট ২০২৬)- র ঘটনা। প্রাক্তন ওই বিধায়কের নাম আশীষ ব্যানার্জী। তিনি ছিলেন তৃণমূল জমানায় মন্ত্রী এবং বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার। বাড়ির সামনে দলীয় কার্যালয়ে ফ্যানে দড়ি দিয়ে তার দেহ ঝুলছিল। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গোটা বিষয়টিই খুব রহস্যজনক। ঘটনাস্থল থেকে একটি ' সুইসাইড নোট ' উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই নোট লেখা -তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। চাকরি দুর্নীতি, আর্থিক দুর্নীতি, কারও থেকে টাকা নেওয়া, কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। টাকার বিনিময়ে কিছু করে দেবেন , এমনটা কাউকে বলেননি। রাজনৈতিক জীবনে বহু মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। তবে, টাকার বিনিময়ে কখনও কোনও অন্যায় করেননি। কলেজে অধ্যাপনা করার সময়ও কোনও অন্যায় সুযোগ সুবিধা নেননি। পরিবারের জন্য লিখে গেছেন 'রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছে তাঁর।' রাজনীতিতে এসে 'প্রতিহিংসার শিকার' হয়েছেন। পরিবারের কেউ যেন কখনও রাজনীতিতে আসেন, তাও লেখা রয়েছে। এছাড়াও লেখা আছে, ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্ক যেন বজায় থাকে। চিঠির একেবারে শেষের দিকে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’
বাম আমলে এখান থেকে তিনি বিধায়ক হন। রামপুরহাটের বাজার সংলগ্ন এলাকায়, নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে এসব কিছু ছাপিয়ে তার অধ্যাপক পরিচিতিই ছিল সকলের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। সকলের কাছেই স্যার হিসেবে সম্মান পেতেন। আজ সকালে কিছু মানুষ জানলা দিয়ে দেখেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর দেহ ঝুলছে। এরপরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। রামপুরহাট থানার পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। গোটা বিষয়টিই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মন্ত্রীত্ব এবং ডেপুটি স্পিকার ছাড়াও 'তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ'র চেয়ারম্যান ছিলেন আশীষ ব্যানার্জী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলে, মমতা শিবিরকে কে ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে তিনি যোগ দেন। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে - এই মর্মে ভোটে জিতে আসা বর্তমান শাসকদল পর বিজেপি অভিযোগ করে। শুরু হয় তদন্ত। রাজ্যের দেওয়া তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের জন্য বরাদ্দ, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে জানা গেছিল। এই ঘটনায় আশিস ব্যানার্জী সহ অন্যরাও জড়িত ছিল- এমনটাই অভিযোগ করেছিল বিজেপি। শুধু এটুকুই নয়, রামপুরহাট পুরসভাতেও নানারকম দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। প্রশ্নটা থাকছেই,খেদ না লজ্জা? আশীষ ব্যানার্জীর মৃত্যুর তদন্তে এই প্রশ্নটাও জরুরি।