নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথকে ঘিরে তৈরি হওয়া মনোনয়ন-বিতর্কে আপাতত বড় মোড়। তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কংগ্রেসের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন হাসিরানি রথ। ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে হাসিরানি রথের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে না এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে আদালত হস্তক্ষেপ করেনি।
বিতর্কের সূত্রপাত হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামায় থাকা তথ্যকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, হলফনামায় তাঁর জন্মসাল এবং দশম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময়কাল নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হলফনামায় ১৯৬৫ সালের সঙ্গে তাঁর দশম শ্রেণির পড়াশোনার তথ্য যুক্ত ছিল, যা তাঁর জন্মসালের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এই তথ্যকে সামনে রেখেই কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।
মামলাকারীদের আরও দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট স্কুলের অনুমোদন ও দশম শ্রেণির পড়াশোনার সময়কাল নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, মনোনয়নপত্রে যদি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকে, তাহলে তা খতিয়ে দেখে রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেন না কেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য ছিল, মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় কেন এই আপত্তি তোলা হয়নি, সেই প্রশ্নও বিবেচনার বিষয়। ২৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন।
এর মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হলফনামায় থাকা ১৯৬৫ সালের উল্লেখটি টাইপের ভুল হতে পারে। হাসিরানি রথও জানিয়েছিলেন, তিনি আইনের প্রতি আস্থাশীল এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন। তাঁর জন্মতারিখ সংক্রান্ত একটি স্কুল-প্রদত্ত নথির কথাও বিজেপির পক্ষ থেকে সামনে আনা হয়েছিল।
অবশেষে ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের লড়াইয়ে হাসিরানি রথের প্রার্থিতা বহাল থাকল। ফলে এখন নজর সরাসরি ৬ অক্টোবরের ভোটের দিকে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক ও আইনি ঘটনাকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছে। হাসিরানি রথের মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি সেই তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল।
তবে হলফনামা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির রাজনৈতিক বিতর্ক যে এখানেই শেষ, তা বলা যায় না। নির্বাচনের আগে প্রার্থী, মনোনয়ন এবং ভোটার তালিকা, সবকিছু ঘিরেই নন্দীগ্রামে নজর এখন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। আদালতের আজকের সিদ্ধান্ত অবশ্য হাসিরানি রথের প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া তাৎক্ষণিক আইনি অনিশ্চয়তা দূর করল।
