নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে একটানা আড়াই দশক। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত গুজরাটের হাল ধরে মুখ্যমন্ত্রী পদে যে যাত্রার সূচনা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী, ২০২৬ সালের আজকের দিনটিতে এসে তা স্পর্শ করল এক বিরল ও ঐতিহাসিক মাইলফলক। গান্ধীনগরের সচিবালয় থেকে দিল্লির সাউথ ব্লক দীর্ঘ ২৫ বছরের এই প্রশাসনিক অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীতে ছিল উৎসবের আবহ।
দিনের শুরুতে দিল্লির সরোজিনী নগরের বিখ্যাত শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী। চিরাচরিত রীতি মেনে বিঘ্নহর্তা গণেশের আরাধনা সেরে তিনি দেশবাসীর দীর্ঘায়ু, শান্তি এবং সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই সেই প্রার্থনার কথা উল্লেখ করে লেখেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনে কল্যাণ আসুক এবং ভারত যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রগতির সোপানে এগিয়ে যায়।
https://x.com/ANI/status/2107664646161502572?s=20
এ দিন প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক ইনিংসকে কেন্দ্র করে দলের পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলেও তৈরি হয় বিপুল উদ্দীপনা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বরিষ্ঠ সদস্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে পাঠানো হয় অভিনন্দনের বার্তা। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান মোদী এই কর্মযজ্ঞকে “অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক এক সেবাপর্ব” বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক বার্তায় জানান, জনকল্যাণে মোদী এই নিরলস নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোনও নেতার একটানা ২৫ বছর সরকার প্রধান অর্থাৎ ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী ও ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা এবং তিনটি সফল লোকসভা নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে মসনদে টিকে থাকা সমকালীন রাজনীতিতে প্রায় নজিরবিহীন।
এই উপলক্ষেই দিল্লিতে আয়োজিত হয় ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা সেবা জ্যোতি যাত্রা’। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিনে দেশজুড়ে যে ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছিল, বুধবার ছিল তারই পূর্ণাহুতি। অনুষ্ঠান মঞ্চে হাজির ছিলেন দলের হাজার হাজার তরুণ কর্মী, যুব মোর্চার প্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিক।
দিল্লির পাশাপাশি বিশেষ সমাপনী আয়োজনে মেতে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর শিকড় ও কর্মক্ষেত্রও। তাঁর জন্মভূমি গুজরাটের ভাদনগরের ঐতিহাসিক হটকেশ্বর মহাদেব মন্দিরে আয়োজিত হয় বিশেষ প্রার্থনা।
অন্যদিকে, তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে সেবাযাত্রীরা কাশী বিশ্বনাথ ধামে শ্রদ্ধার সঙ্গে জলাভিষেক সম্পন্ন করে এই বিশেষ পদযাত্রার ইতি টানেন।