নয়াদিল্লি: প্রশাসক হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন তিনি। সেই দিন থেকে শুরু করে বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬—টানা ২৫ বছর ধরে দেশের প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মোদী। এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে দিল্লির শ্রী বিনায়ক মন্দিরে গিয়ে পুজো ও প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।
প্রার্থনার প্রসঙ্গ টেনে মোদী জানান, নিজের জন্য ঈশ্বরের কাছে তাঁর চাওয়া বরাবরই একটাই। আরও বেশি করে মানুষের কাজ করার শক্তি। তাঁর কথায়, দেশবাসীর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি মানুষের সেবা করার সামর্থ্য ও শক্তিই তিনি ঈশ্বরের কাছে চেয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের রূপ দেখতে পান বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ২৫ বছরের পথচলার কথা বলতে গিয়ে মোদী বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যখন প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, তখন তিনি ভাবেননি যে একদিন প্রশাসক হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করবেন। তাঁর মতে, এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে দেশবাসীর আশীর্বাদ এবং মানুষের আস্থার কারণেই।
এই উপলক্ষে বিজেপি, এনডিএ এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখা সমস্ত মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিধানসভা থেকে লোকসভা—একাধিক নির্বাচনে মানুষের দেওয়া ধারাবাহিক বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। প্রতিটি সাফল্য তাঁর দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে এবং আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।
তাঁর ২৫ বছরের প্রশাসনিক জীবনের বিভিন্ন কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করেন মোদী। ভুজের ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই ভয়াবহ বিপর্যয় তাঁকে পুনর্নির্মাণের শিক্ষা দিয়েছে। চন্দ্রযানের সাফল্যের আগে পাওয়া ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা এবং করোনার সময় থেকে রাষ্ট্রীয় চেতনার গুরুত্ব উপলব্ধি করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, মিডিয়ার সমালোচনা, প্রশংসা এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। জীবনের কোনও ঘটনাকেই তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না। বরং প্রতিটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রশাসক হিসেবে ২৫ বছর পূর্তিকে ঘিরে দেশজুড়ে বিজেপির তরফেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জায়েন্ট স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচারের পাশাপাশি মশাল যাত্রা এবং ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর মতো কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।
২৫ বছরের এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাত্রার পরও মানুষের জন্য আরও কাজ করার সংকল্পই যে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
