ভারত ও চিনের সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘ ৬ বছর বন্ধ থাকার পর ফের খুলতে চলেছে সিকিমের ঐতিহাসিক নাথু-লা গিরিপথ। আগামী আগস্ট থেকেই এই পথে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হিমালয়ের বুকে অবস্থিত নাথু-লা গিরিপথ বহু পুরনো বাণিজ্য পথের অংশ। ২০০৬ সালের ৬ জুলাই দীর্ঘ বিরতির পর এই পথে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য চালু হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় বছর পর ফের তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাথু-লা দিয়ে প্রতি বছর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য বাণিজ্য চলে। এই পথের সঙ্গে সিকিমের বহু ব্যবসায়ী এবং পরিবহন কর্মীর জীবিকা জড়িত। চিনের তিব্বত অঞ্চল থেকে কাঁচা রেশম, পশম, ইয়াকের লোম ও বিভিন্ন হস্তশিল্পের সামগ্রী ভারতে আসে। অন্যদিকে ভারত থেকেও বেশ কিছু পণ্য চিনে পাঠানো হয়।
সূত্রের খবর, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর জন্য ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। সেভক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে এই রেলপথ নাথু-লা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রংলি-মেনলা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে।
২০২৫ সালে ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পর তিনটি সীমান্ত বাণিজ্য পথ—সিকিমের নাথু-লা, হিমাচলের শিপকি-লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর দুই দেশের আধিকারিকদের বৈঠকের পর নাথু-লা কেন্দ্রিক প্রস্তুতি আরও গতি পায়।
তবে সামগ্রিক ভারত-চিন বাণিজ্যের তুলনায় নাথু-লা পথের বাণিজ্যের পরিমাণ এখনও অনেক কম। ২০১৬ সালে এই পথে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮২.৬৮ কোটি টাকা। পরে ডোকলাম পরিস্থিতির কারণে তা কমে যায়। ২০১৯ সালে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৩.৫১ কোটি টাকা।
কূটনৈতিক মহলের মতে, নাথু-লা দিয়ে বাণিজ্য শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।




