নয়াদিল্লি: শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের তদন্তে ফের মেটার ভারতীয় নেতৃত্বকে তলব করল জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)। শিশুদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ সংক্রান্ত বেআইনি সামগ্রীর বিজ্ঞাপন বা CSEAM-এর অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর মেটা ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেডকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় NCPCR-এর তৎপরতা শুরু হয় গত ৩ জুলাই। শিশুদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ সংক্রান্ত সামগ্রীর বিজ্ঞাপন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মেটাকে নোটিস পাঠায় কমিশন। সংস্থার কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। মেটা এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের কাছে জবাব জমা দেয়। এরপর বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের পথে এগোয় NCPCR।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় শুনানি হয়েছিল। সেই সময় মেটার তরফে কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক কমিশনের সামনে হাজির হয়ে সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিজে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতির কারণও মেটার প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন। এরপরই পরবর্তী শুনানিতে মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই তদন্তের মধ্যে মেটার রিপোর্টিং ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের কথা সামনে এসেছে। ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সন্দেহজনক ঘটনা এখন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর কাছেও রিপোর্ট করা শুরু করেছে সংস্থাটি। এই পরিবর্তন NCPCR-এর ধারাবাহিক পদক্ষেপের পর এসেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
NCPCR-এর এই পদক্ষেপের গুরুত্বও রয়েছে। শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন আইনের অধীনে কমিশনের তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তলব করা, নথি চাওয়া এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের মতো দেওয়ানি আদালতের কিছু ক্ষমতা রয়েছে।
শুধু মেটা নয়, শিশু নির্যাতনের আরও একটি অভিযোগের ক্ষেত্রেও এদিন পদক্ষেপ করছে NCPCR। বেঙ্গালুরুতে ক্যাপজেমিনি পরিচালিত একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে সংস্থাটির এক ভাইস প্রেসিডেন্টকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় তলব করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং কারও দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন।
এখন নজর ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানির দিকে। মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কমিশন কী তথ্য পায় এবং তদন্ত পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন; তাই চূড়ান্ত দায় বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।