সংসদের বাদল অধিবেশনের আবহে মঙ্গলবার সকালে সংসদের গ্রন্থাগার ভবনে এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ এনডিএ-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একই সারিতে বসতে দেখা যায় তাঁকে। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সুদীপ দাবি করেন, ‘‘এনসিপিআই-তে সকলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’’ তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরেই বৈঠকে তিন সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। গত কয়েক দিন ধরেই এই তিন সাংসদকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক জল্পনা চলছে। তাঁদের তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ওই সাংসদদের তরফে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।
এই জল্পনার মধ্যেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায়ের একটি মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। সংসদ চত্বরে আবু তাহের এবং খলিলুর রহমানকে পাশে নিয়ে সৌগত বলেছিলেন, তাঁরা চাইছেন সবাই আবার দলে ফিরে আসুন। সোমবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও দাবি করেছিলেন, এনসিপিআই-এর দিকে যাওয়া কয়েক জন সাংসদ এবং বিধায়ক তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
এদিকে, এনডিএ-র বৈঠকে সুদীপের উপস্থিতি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে। বাদল অধিবেশন শুরুর পর আগের এনডিএ বৈঠকে সুদীপ উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে এনসিপিআই-এর হয়ে বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লোকসভার মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে একই সারিতে বসেছিলেন কাকলি। মঙ্গলবারের বৈঠকেও তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যায়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সুদীপ, কাকলি-সহ এনসিপিআই-এর অন্যান্য সাংসদের। সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
তবে তিন সাংসদের অনুপস্থিতি এনসিপিআই-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নির্বাচন কমিশনের খাতায় এনসিপিআই স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হলেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদ এখনও লোকসভার নথিতে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। তাঁরা এখনও লোকসভার হিসাবে তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছেন। ফলে আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে।