কলকাতা: তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের NCPI-তে যোগদানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল। দলটির নয়া জাতীয় কমিটি গঠন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন NCPI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শান্তনু দে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেও চিঠি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের দলত্যাগ এবং NCPI-তে যোগদানকে কেন্দ্র করে। জুন মাসে ওই সাংসদরা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে NCPI-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই তাঁদের সাংসদপদ নিয়ে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন। একই সময়ে NCPI-এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও প্রকাশ্যে মতবিরোধ সামনে এল।
মঙ্গলবার NCPI-এর নতুন জাতীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে সভাপতি হিসেবে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবু তাহের খান, দেব, ইউসুফ পাঠান, জগদীশচন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মিতালি বাগ এবং বাপি হালদারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তবে নতুন কমিটিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই।
এই কমিটি ঘোষণার পরই আপত্তি জানান শান্তনু দে। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আগে থেকে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, তাঁকে তো বটেই, দলের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকেও কমিটি গঠনের আগে আলোচনায় ডাকা হয়নি।
শান্তনু দে আরও দাবি করেছেন, NCPI গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে এবং দলটি পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নিবন্ধিত হয়। সেই সময় তিনি জাতীয় সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। NCPI-এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলিতেও তাঁর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাতীয় সংগঠনের দায়িত্বে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কমিটিতে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়কে সভাপতি করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনু। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বা দলের পুরনো সদস্যদের পরিচয় নেই এবং তাঁকে আগে সংগঠনের কাজে দেখেননি। তবে এগুলি শান্তনু দে-র নিজস্ব বক্তব্য ও অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণ বা NCPI-এর নতুন নেতৃত্বের পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে শান্তনু দে বলেছেন, তিনি সাংসদদের NCPI-তে আসার বিরোধী নন। তবে তাঁর বক্তব্য, তাঁদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলে আসা উচিত। তাঁর প্রশ্ন, তাঁরা যদি NCPI-এর সদস্য হিসেবে নিজেদের দাবি করেন, তাহলে দলটির পুরনো সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ভূমিকা কী হবে?
এর মধ্যেই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে চলা প্রক্রিয়ায় নতুন করে সময় চাওয়া হয়েছে। লোকসভার স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন তাঁরা। ফলে সাংসদদের ভবিষ্যৎ এবং NCPI-এর সাংগঠনিক বৈধতা—দুই ইস্যুই এখন একইসঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে।
ফলে NCPI-কে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি এবার দলের অভ্যন্তরীণ সংগঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠল। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের চিঠির পর স্পিকার কী পদক্ষেপ করেন এবং নতুন কমিটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কোনও সাংগঠনিক বা আইনি সিদ্ধান্ত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর।
