মুখে ব্রণ হওয়া বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের অন্যতম সাধারণ ত্বকের সমস্যা। একটি ছোট ব্রণও অনেক সময় আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, অফিস, কলেজ কিংবা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সময় এই সমস্যা আরও অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। ত্বকের যত্নে বাজারে নানা ধরনের প্রসাধনী ও ওষুধ থাকলেও অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে সমাধান খোঁজেন। সেই তালিকায় বহুদিন ধরেই রয়েছে নিমপাতা।
আয়ুর্বেদে দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় নিমপাতা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিমের মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে, ত্বকের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ সাধারণত ত্বকের রোমকূপে তেল, মৃত কোষ ও জীবাণু জমে তৈরি হয়। নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য এই সমস্যায় কিছুটা উপকার দিতে পারে বলে মনে করা হয়।
ঘরোয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমে কয়েকটি টাটকা নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে বেটে রস বের করা যায়। রাতে মুখ পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেওয়ার পর তুলোর সাহায্যে শুধু ব্রণের উপর অল্প পরিমাণ নিমের রস লাগানো যেতে পারে। সকালে পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হয়। নিয়মিত কয়েক দিন ব্যবহার করলে ব্রণের লালচে ভাব ও ফোলাভাব কিছুটা কমতে পারে।
এছাড়া নিম দিয়ে ফেসপ্যাকও তৈরি করা যায়। নিমবাটার সঙ্গে অল্প কাঁচা হলুদ মিশিয়ে সপ্তাহে এক বা দুই দিন ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করতে পারে। অনেকেই আবার নিমপাতা ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে মুখ ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেলাভাব কমানোর সম্ভাবনা থাকে।
তবে যে কোনও ঘরোয়া উপায় ব্যবহারের আগে সতর্কতা জরুরি। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সরাসরি নিমের রস ব্যবহার করলে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে নিমের রস মুখে রেখে দেওয়াও উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, যদি ব্রণ বড় আকারের হয়, বারবার সংক্রমণ হয়, প্রচণ্ড ব্যথা থাকে বা পুঁজ বের হতে শুরু করে, তাহলে শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। ঘরোয়া পরিচর্যা অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, তবে সবার ত্বক একরকম নয়। তাই সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাই সুস্থ ত্বকের মূল চাবিকাঠি।