নিউজ ডেস্ক: NEET-UG 2025-এ ভর্তির সময় ভুয়ো স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার অভিযোগে উত্তরাখণ্ডে গ্রেফতার হলেন দু’জন। অভিযোগের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মীরাটের একটি শিক্ষামূলক পরামর্শদাতা সংস্থার মালিক রূপেশ পণ্ডিত এবং হরিদ্বারের বহাদুরপুর খদর গ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দ কুমার। অরবিন্দ একজন NEET পরীক্ষার্থীর বাবা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তরাখণ্ড পুলিশের দাবি, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট নথিগুলি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দেহরাদূনে সাংবাদিক বৈঠকে সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ প্রমেন্দ্র দোবাল জানান, SP (Rural-1) জয় বালোনির নেতৃত্বে SIT তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে মামলার সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত NEET-UG 2025-এর ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর রায়পুর এবং ক্লেমেন্ট টাউন থানায় দুটি FIR দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই ভর্তির সময় জমা দেওয়া নথি এবং সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেটগুলির সত্যতা যাচাই শুরু করে SIT।
প্রাথমিকভাবে যে দুটি নথি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিচয় সংক্রান্ত সার্টিফিকেট এবং ডোমিসাইল সার্টিফিকেট। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংরক্ষণ বা রাজ্য কোটার সুবিধা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ধরনের নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে জাল নথি ব্যবহার করে কেউ প্রকৃত যোগ্যতার বাইরে কোনও সুবিধা পেয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে পুলিশ এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি, ঠিক কী ধরনের জাল সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছিল, কোন পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থীরা তার সুবিধা পেয়েছেন এবং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন।
এই ঘটনায় গ্রেফতার দু’জনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানতে চাইছে, সার্টিফিকেট তৈরির সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না এবং কোনও মধ্যস্থতাকারী বা সংগঠিত চক্র এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না। বিশেষ করে শিক্ষামূলক পরামর্শদাতা সংস্থার মালিক রূপেশ পণ্ডিতের মাধ্যমে আরও কোনও পরীক্ষার্থী বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
NEET-UG হল দেশের স্নাতক স্তরের মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির অন্যতম প্রধান প্রবেশিকা পরীক্ষা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভিন্ন কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট নথি জমা দিতে হয়। সেই নথির সত্যতা যাচাই ভর্তি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই ঘটনায় গ্রেফতারি অবশ্য তদন্তের প্রথম বড় পদক্ষেপ। দোষ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়; অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও তদন্ত চলছে এবং সংগৃহীত নথি ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।
SIT-এর মূল লক্ষ্য এখন জাল সার্টিফিকেটের উৎস খুঁজে বের করা, সেগুলি কার মাধ্যমে তৈরি বা সংগ্রহ করা হয়েছিল তা শনাক্ত করা এবং এই ঘটনায় আরও কোনও পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা মধ্যস্থতাকারী যুক্ত রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। ফলে তদন্ত যত এগোবে, NEET-UG 2025 ভর্তি প্রক্রিয়ায় কথিত জাল নথি ব্যবহারের পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
