নেপাল, নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতির রুদ্ররূপে সামনে অসহায় হয়ে ওঠে মানুষ। ধন, সম্পদ, ক্ষমতা প্রতিপত্তি কোনও কিছুই ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারে না বিপদের সামনে। সবকিছুই যেন ফিকে হয়ে যায় পরিস্থিতির কাছে। নেপালের এই ভয়ংকর রূপ যেন তারই বহিঃপ্রকাশ।
প্রাকৃতিক বিপর্যায়ের মাঝে যখন বিধ্বস্ত নেপাল ঠিক তখনই সামনে এলো দায়িত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক মানবিক দৃশ্যে। যা বুঝিয়ে দিয়েছে মনুষ্যত্ব আজও বেঁচে রয়েছে। শুধু দায়িত্ব পালন নয় মানুষের সেবাও সেনা জওয়ানদের অন্যতম বড় ধর্ম।
নেপালের এই জরুরি পরিস্থিতির মাঝে মানবিকতার অনন্য নজির গড়ে তুললেন সেনা জওয়ানরা। কঠিন এই সময়ে হাতে অস্ত্র নয়, বরং বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হাতা খুন্তি নিয়ে দেখা গেল তাদের। অসহায় এই মানুষগুলোর জন্য রান্নার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তারা।
সূত্র: https://x.com/NewsAlgebraIND/status/2093667002699354449
কাঠমান্ডুর একটি আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ত্রাণশিবির। চলমান জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এই শিবিরে। আর এই শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে খাবার। কারণ যাই হয়ে যাক ক্ষুদার্থ পেট নিয়ে তো আর পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করা যাবেনা। তাই খাবারের জোগান দিতেই হবে। আর সেখানেই সেনাকর্মীদের দেখা গেল অভিনব উদ্যোগ নিতে। শিবিরে থাকা মানুষদের জন্য খাবার তৈরি করতে হাত লাগালেন তারা। সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রান্নার কাজ করলেন নেপালের সেনাকর্মীরা।
দিন-রাত এক করে এই সেনাকর্মীরা কখনও ত্রান শিবিরের জরুরী পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন আবার কখনও সামলাচ্ছেন হেঁসেল ঘর। কাঠমুন্ডুর এই দৃশ্য রীতিমতো সর্বত্র চর্চিত হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে আবারও এই বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে সংকটের সময় সেনাকর্মীরা শুধু নিরাপত্তার প্রহরী নন, প্রয়োজনে তারা বন্ধুও।
জরুরী এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে নেপাল সরকারের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ত্রাণ শিবির। সেখানে ক্রমাগতই মানুষদের সহায়তা করে চলেছেন সেনা কর্মীরা। তাদের উর্দির আড়ালে যে মানবিকতার ছবি ফুটে উঠেছে তা বহু মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।




