নিউজ ডেস্ক: নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি-চক্রান্তের তদন্তে। ইমাম মাহমুদার কাফিলা বা Imam Mahmuder Kafila (IMK)-কে ঘিরে তদন্তের সূত্র ধরে অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে National Investigation Agency (NIA)। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৬টি জায়গায় এই অভিযান চলছে এর মধ্যে অসমে ১০টি, পশ্চিমবঙ্গে ৫টি এবং কেরলে ১টি জায়গা রয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য, সন্দেহভাজন যোগাযোগ, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা।
IMK-কে তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন Jama’atul Mujahideen Bangladesh (JMB)-এর একটি শাখা বা manifestation হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর আগে এই মামলায় NIA-র তদন্তে উঠে এসেছিল যুবকদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা, সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রচারের অভিযোগ। জুন মাসে NIA এই মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করেছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, IMK-র মাধ্যমে JMB-র মতাদর্শ ভারতের মাটিতে ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যে সংগঠনের প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তদন্তে উঠে আসে। NIA-র অভিযোগ অনুযায়ী, গোপন বৈঠক, মতাদর্শগত প্রচার, উগ্রপন্থী সাহিত্য ছড়ানো এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রচারের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই মামলায় দুই গুরুত্বপূর্ণ নামও সামনে এসেছে। NIA-র চার্জশিট অনুযায়ী, নাসিমউদ্দিন অসমে IMK-র কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জগির মিয়াকে ত্রিপুরায় নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংগ্রহের কথাও জানিয়েছে NIA।
এর আগে প্রকাশিত তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্যেও অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় IMK-সংক্রান্ত যোগাযোগ ও নিয়োগের অভিযোগ উঠে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যবহার এবং সীমান্তের ওপারের যোগাযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
এখন নতুন করে ১৬টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেই স্পষ্ট। বিশেষ করে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জায়গায় অভিযান এবং কেরলে একটি অবস্থানে তল্লাশি চালানোর বিষয়টি তদন্তকারীরা কী ধরনের যোগাযোগ বা তথ্যের সূত্র পেয়েছেন, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে। NIA-র আগের বিবৃতি অনুযায়ী, এই মামলার তদন্ত এখনও চলমান। ফলে নতুন অভিযানে উদ্ধার হওয়া নথি, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিজিটাল সামগ্রী থেকে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান, তার উপর পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে।
