অমরোহা (উত্তরপ্রদেশ): সাত পাক ঘুরতে ঘুরতে বর এক জন, কিন্তু কনে? এক নয়, দুই নয়, একেবারে তিন! মালাবদলও হল তিন বার, সিঁথিতে সিঁদুরও পরালেন তিন জনকেই। বিয়ের মণ্ডপে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন, বুঝি কোনও শর্ট ফিল্ম বা ইউটিউবের শুটিং চলছে। কিন্তু না, যা ঘটছে, তা নাকি সত্যিই বিয়ে! উত্তরপ্রদেশের অমরোহার এই অভিনব বিয়ের ভিডিও এখন সমাজমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল। বিস্ময়ের পাশাপাশি শুরু হয়েছে জোর বিতর্কও।
ঘটনার কেন্দ্রে তিন তরুণী— তাঁদের মধ্যে দুই জন আপন বোন, অন্য জন খুড়তুতো বোন। আর যাঁকে বিয়ে করলেন, তিনি পেশায় তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওর ক্যামেরাম্যান। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতে করতেই বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা। কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্পে নাকি কাউকে বাদ দিতে রাজি ছিলেন না তিন জনের কেউই!
পরিবারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, ছোটবেলা থেকে তিন জনের বেড়ে ওঠা একসঙ্গেই। একই বাড়ি, একই উঠোন, একই হাসি-কান্না। তাই বিয়ের পর তিন দিকে তিন জনের চলে যাওয়ার ভাবনাই মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত— যদি সংসার করতেই হয়, তা হলে একই মানুষের সঙ্গে, একই ছাদের নীচে। আর সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হল মন্দিরের বিয়ের আসরে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে একে একে তিন তরুণী বরের গলায় মালা পরিয়ে দেন। তারপর সনাতন রীতিতেই সম্পন্ন হয় বিয়ের অন্যান্য আচার। এক জনের পর এক জনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন বর। উপস্থিত অতিথিদের কেউ হাততালি দিচ্ছেন, কেউ আবার মোবাইলে বন্দি করছেন এই বিরল দৃশ্য। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
তিন তরুণীর বক্তব্যও কম চমকপ্রদ নয়। তাঁদের দাবি, এই বিয়েতে কোনও জোরজবরদস্তি নেই। প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ একটাই— “আমরা কোনও দিন আলাদা থাকতে চাইনি। বিয়ের পরেও একসঙ্গেই থাকতে চাই।”
তবে সমাজমাধ্যমে যতটা কৌতূহল, ততটাই সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতে এক জন পুরুষের একাধিক বিয়ে কি আইনসম্মত? বিশেষজ্ঞদের মতে, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে বৈধ নয়। ফলে সামাজিক বা ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হলেও সেই বিয়ে আইনের চোখে স্বীকৃতি পাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ। প্রশাসনিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, তিন কনের মধ্যে একজন নাবালিকা হতে পারেন। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি)-র প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্কুলের নথির ভিত্তিতে তাঁর বয়স ১৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট তরুণীর দাবি, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছেন।
ভালোবাসার গল্প, না কি আইনের পরীক্ষায় পড়তে চলা এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত— অমরোহার এই বিয়ে এখন সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। কেউ বলছেন, "এ এক অন্য রকম প্রেমের কাহিনি।" আবার কারও মন্তব্য, “ভাইরাল হওয়ার যুগে বাস্তব আর অভিনয়ের সীমারেখাটাই যেন ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।”