নিউজ ডেস্ক: সমুদ্রের গভীরে সন্ধান মিলল প্রাকৃতিক গ্যাসের। ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে মহানদী অববাহিকায় গভীর সমুদ্রের একটি কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস সংস্থা ONGC। প্রায় ১,৪৫০ মিটার গভীরে খনন করা MDW-28 নামক ওই কূপ থেকে টানা ৩ দিন গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে ONGC। যদিও প্রবাহের হার এবং কূপটির নীচে ঠিক কত পরিমাণ গ্যাস সঞ্চিত রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি সংস্থা। ফলে আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে প্রয়োজন আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার।
দেখুন: https://x.com/NewsAlgebraIND/status/2102114587588050974?s=20
মহানদী অববাহিকা মূলতঃ ওড়িশা উপকূল ঘেঁষা বঙ্গোপসাগরের একটি বিস্তীর্ণ ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল। নদী ও সমুদ্রের তলায় দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা পলি, জৈব পদার্থ এবং ভূগর্ভস্থ তাপ-চাপের প্রভাবে এখানে তেল ও গ্যাসের সঞ্চয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান অবশ্য স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর এবং ব্যয়সাপেক্ষ। সমুদ্রের তলায় নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে গ্যাসের উপস্থিতি চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে তা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি, প্রতিটি ধাপেই রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।
MDW-28 কূপে গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া যাওয়ায় মহানদী অববাহিকায় আরও অনুসন্ধানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে কোনও কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া মানেই যে সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব, এমনটা মোটেই নয়। বরং গ্যাসের মজুত কতটা, দীর্ঘমেয়াদে কত হারে উৎপাদন করা যাবে এবং উত্তোলনের খরচ কত হবে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার পরেই প্রকল্পটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা স্পষ্ট হবে। সে কারণেই কূপটির আরও মূল্যায়ন এবং ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের জোগান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার যে ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার একটি অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। দেশীয় উৎস থেকে নতুন গ্যাসের সন্ধান মিললে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমতে পারে। পাশাপাশি সার, বিদ্যুৎ, শিল্প এবং নগর গ্যাস সরবরাহের মতো ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। যদিও MDW-28-এর আবিষ্কার থেকে ঠিক কতটা গ্যাস পাওয়া যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবু মহানদী অববাহিকায় এই সাফল্য ভারতের গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল।
