নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তৎপরতা বাড়াল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন মোট ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, এই সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্তে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। মোট ১২টি দলে ভাগ হয়ে দেশের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম নৌসেনা ঘাঁটি থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে এক নৌসেনাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পরই তদন্ত আরও জোরদার হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সন্দেহভাজনরা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, দিল্লি, গুজরাত, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তীসগঢ়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নৌসেনার আধিকারিক, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় নথি, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আদালত তাঁকে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলায় আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়ির চালক আন্নাম সাই ভারা প্রসাদ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রদীপ এবং প্রসাদ দু’জনেই অর্থের বিনিময়ে পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছিলেন।
তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য পাচার করা হয়েছিল এবং দেশের কোন কোন সংবেদনশীল স্থাপনা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে বিশাখাপত্তনম নৌসেনা ঘাঁটি-সহ সামরিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত কোনও তথ্য ফাঁস হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৮ জনের মধ্যে ১৩ জন নৌসেনাকর্মীর নাম উঠে আসায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কোনও বড়সড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬-এর মাধ্যমে একসঙ্গে একাধিক রাজ্যে তল্লাশি চালানোয় তদন্তের পরিধি যে আরও বাড়তে পারে, তা স্পষ্ট। আপাতত দু’জন গ্রেফতার হলেও আগামী দিনে আরও নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর গোয়েন্দা মহলের।
