নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্তজুড়ে সক্রিয় এক আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের কোমর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলির যৌথ বাহিনী। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ নামের এই মেগা অভিযানের বিরাট সাফল্যের খবর সামাজিক মাধ্যমে নিজেই তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সামাজিক মাধ্যমে যৌথ বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা দেশকে সম্পূর্ণভাবে মাদকজাল মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র, আর এই অভিযান সেই লক্ষ্যপূরণেরই একটি বড় পদক্ষেপ। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং চক্রের শেষ চিহ্ন মুছে না যাওয়া পর্যন্ত এই দমনপীড়ন অব্যাহত থাকবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের মোট ৩৮টি কৌশলগত এলাকায় একযোগে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল এবং তিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হয়। আন্তর্জাতিক এই চক্রটি মূলত তথাকথিত ‘ডেথ ট্রায়াঙ্গেল করিডোর’ বা মৃত্যু ত্রিভুজ রুট ব্যবহার করে ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে মাদক পাচারের জাল বিস্তার করেছিল। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারকে হাতিয়ার করে চলছিল এই অবৈধ কারবার।
https://x.com/AmitShah/status/2114199589343678498?s=20
অভিযানে উদ্ধার হওয়া তথ্যে তদন্তকারীরাও রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্তত ১০০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেনের হদিশ মিলেছে। পাচারকারীদের আর্থিক মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিতে তৎপরতার সাথে ১,৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লেনদেন স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে চক্রের সাথে যুক্ত প্রায় ১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।
তবে শুধু মাদক কারবারই নয়, অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে ৫০০টি বিস্ফোরক ডেটনেটর এবং নগদ ১২ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক মাদক কারবারের পাশাপাশি উগ্রপন্থী বা নাশকতামূলক কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে এদের যোগাযোগ ছিল কি না, এত পরিমাণ ডেটনেটর মজুত করার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
এই বিরাট সাফল্যের পর তদন্তে যুক্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা ও তিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। আগামী ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা দেশকে সম্পূর্ণভাবে মাদকজাল মুক্ত করার যে লক্ষ্য কেন্দ্র নিয়েছে, এই অভিযান তারই একটি বড় পদক্ষেপ। মাদকচক্রের কফিনে শেষ পেরেক না পোঁতা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর এই যৌথ দমনপীড়ন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এখন এই আন্তর্জাতিক চক্রের বাকি পান্ডাদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।




