নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। ২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে সূত্রের দাবি। প্রস্তাবের নোটিস তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহেই তা সংসদে জমা পড়তে পারে।
এই নতুন পদক্ষেপের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী, গত প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন।
বিরোধীরা এই ঘটনাকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ইমপিচমেন্ট মোশনের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। লোকসভা এবং রাজ্যসভা, দুই কক্ষেই নোটিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিলও বিরোধী দলের ৭৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে একটি নোটিস জমা দিয়েছিলেন। সেই নোটিস এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে বিরোধী সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যাও দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। কমিশন আরও দাবি করেছে, গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই গৃহীত হয়েছে।
বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে। দলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিনিময় বা ভিন্ন মত থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
ফলে এখন নজর সংসদের দিকে। বিরোধীরা সত্যিই কবে নোটিস জমা দেয় এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সেটি কতদূর এগোয়, সেটাই পরবর্তী বড় প্রশ্ন। আপাতত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের উদ্যোগ প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে, নোটিস জমা পড়া বা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।