সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে নেমে নতুন সমস্যার মুখে পড়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে বা পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশনে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করলেও, নয়াদিল্লি সেই প্রক্রিয়ায় না থাকায় আইনি লড়াইয়ের পুরো ব্যয়ভার এখন ইসলামাবাদকেই বহন করতে হচ্ছে। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ছয় লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। মামলা দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত এক বছর ধরে ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রেখেছে। তার আগেই পাকিস্তান পিসিএ-র দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের কোনও এখতিয়ার নেই এবং তাই তারা এই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। ফলে আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের ভাগের খরচও এখন পাকিস্তানকেই বহন করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তইবার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’ এই হামলার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তখন মন্তব্য করেছিলেন, “রক্ত ও নদীর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”
সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। ২০১০ সালে কিষাণগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রথমবার পিসিএ-তে মামলা করে পাকিস্তান। পরে রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও আপত্তি তোলে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই প্রকল্পগুলি সিন্ধু জল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ২০১৬ এবং ২০২৩ সালেও একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা।
তবে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কেন্দ্রের দাবি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিরোধ কোনও সালিশি ট্রাইব্যুনালের নয়, বরং নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তাই পিসিএ-র কার্যক্রমকে ভারত বৈধ বলে মানছে না এবং তাদের যে কোনও রায়কেই ‘অকার্যকর ও অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, মামলার খরচ দুই পক্ষ সমানভাবে বহন করে। কিন্তু কোনও পক্ষ অংশগ্রহণ না করলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরো ব্যয়ভার বহন করতে হয় মামলাকারী পক্ষকে। সেই নিয়মেই এখন পাকিস্তানকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে মামলা থেকে সরে এলেও আন্তর্জাতিক মহলে তাদের অবস্থান দুর্বল হবে। আবার মামলা চালিয়ে গেলেও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। ইতিমধ্যেই আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত দেশটির জন্য এই পরিস্থিতি বড় চাপ তৈরি করেছে।