ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিদেশ থেকে সহিংসতা ছড়ানোর যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা যে ভিত্তিহীন নয়—তারই প্রমাণ দিল দিল্লি পুলিশ। সম্প্রতি যন্তরমন্তরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তি ও অরাজকতার পেছনে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট এক ভয়াবহ চক্রান্ত সামনে এসেছে।
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, ভারতের যুবসমাজ বিশেষত 'জেন জি'-কে উত্তেজিত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় ৪০০টি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট দিনরাত সক্রিয় রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইনস্টাগ্রামের ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অশুভ উদ্দেশ্যে সেখানকার অ্যালগরিদম বদলে উসকানিমূলক ও বিতর্কিত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রায় ১০০টি পাক ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর পাশাপাশি 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময়েও এই একই অ্যাকাউন্টগুলি ভারতের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ও বিদ্বেষ ছড়াতে ব্যবহৃত হয়েছিল। ভারতবিরোধী প্রচার ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য।
দিল্লিতে আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে প্রশাসন। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ পড়ুয়াদের দাবি আলোচনার মাধ্যমে শোনার ও সমাধানের পথ খোলা থাকলেও, এই সহিংসতার নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতা ও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষার্থীদের মূল দাবি কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জটিলতায় হারিয়ে যেতে বসেছে? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মতো এ দেশের ছাত্র আন্দোলনও কি তবে কোনো বাইরের চক্রান্তকারী শক্তির হাতে অপহৃত (হাইজ্যাক) হতে চলেছে—সেই আশঙ্কা এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।