JAZZBAAT 24 BANGLA
০১ অক্টো ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
Breaking
Durga puja: মোরগ লড়াই, সাঁওতালি নাচ: এই রীতি এখনও আসছে প্রাচীন জমিদার পরিবারের দুর্গোৎসবে 'শাখারভ সরকারের জয় কেউ আটকাতে পারবেন না' উপনির্বাচনের প্রচারে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী Kolkatay Sherlock: অরিন্দম শীলের পরিচালনায় বেকার স্ট্রিটের বিখ্যাত গোয়েন্দা এবার কলকাতায... Snehashis Chakraborty: প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের ‘কো-অপারেটিভ’ কাণ্ডে এবার তদন্ত কমিশনে... Indranil Sen: সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরার পর আগামী সপ্তাহেই আবার তলব Murshidabad: ভোটের প্রচারে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, শোকাহত পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী Mahalaya: পিতৃপক্ষে পূর্বপুরুষ স্মরণ, মহালয়ায় শেষ হবে ষোলো দিনের আচার ‘পুজো সকলের’, টাকা দিয়ে VIP পাস নয়, দুর্গাপুজোয় বড় বার্তা সমন্বয় সমিতির Durga puja: মোরগ লড়াই, সাঁওতালি নাচ: এই রীতি এখনও আসছে প্রাচীন জমিদার পরিবারের দুর্গোৎসবে 'শাখারভ সরকারের জয় কেউ আটকাতে পারবেন না' উপনির্বাচনের প্রচারে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী Kolkatay Sherlock: অরিন্দম শীলের পরিচালনায় বেকার স্ট্রিটের বিখ্যাত গোয়েন্দা এবার কলকাতায... Snehashis Chakraborty: প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের ‘কো-অপারেটিভ’ কাণ্ডে এবার তদন্ত কমিশনে... Indranil Sen: সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরার পর আগামী সপ্তাহেই আবার তলব Murshidabad: ভোটের প্রচারে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, শোকাহত পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী Mahalaya: পিতৃপক্ষে পূর্বপুরুষ স্মরণ, মহালয়ায় শেষ হবে ষোলো দিনের আচার ‘পুজো সকলের’, টাকা দিয়ে VIP পাস নয়, দুর্গাপুজোয় বড় বার্তা সমন্বয় সমিতির

Durga puja: মোরগ লড়াই, সাঁওতালি নাচ: এই রীতি এখনও আসছে প্রাচীন জমিদার পরিবারের দুর্গোৎসবে

Durga puja: মোরগ লড়াই, সাঁওতালি নাচ: এই রীতি এখনও আসছে প্রাচীন জমিদার পরিবারের দুর্গোৎসবে
ঘোষ জমিদার পরিবারের প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন দুর্গোৎসব ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: হাওড়া–বর্ধমান মেইন লাইনে রেলপথের পাণ্ডুয়া স্টেশনে নেমে পুনরায় সড়কপথে কুড়ি মিনিট বাসযাত্রা করে এই জামগ্রামে আসা যায়। গ্রামের দুই দিকে শস্যশ্যামলা সবুজ ধানক্ষেত পেরিয়ে কালো পীচের রাস্তা চলে গেছে নবদ্বীপ অভিমুখে। এই জামগ্রামে আসলে এখানকার প্রাকৃতিক শোভা মনকে ভরিয়ে তোলে। এই জামগ্রামের সুপ্রাচীন ঘোষ জমিদার পরিবারের সাবেক দুর্গোৎসবটি প্রায় ৩০০ বৎসরের প্রাচীন। ঘোষ পরিবারের পারিবারিক তথ্য অনুসারে, পূজাটি ১৭১৮ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭২০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে শুরু হয়। অতীতে একটা সময় ছিল যখন এই জামগ্রামের ঘোষ জমিদার পরিবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গমগম করতো গোটা জামগ্রাম। এখন মানুষ শহরমুখী, কাজেই উৎসাহী লোকজনের সংখ্যাও অনেক কমে গিয়েছে। যে দুর্গাদালানে সন্ধিপূজা বা আরতি কালীন এক সময়ে স্থান অকুলান হত, সেই দালানের অনেকটা অংশ ইদানিং ফাঁকাই পড়ে থাকে। 

ঘোষ পরিবারে দুর্গাপূজার সকল কাজ সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত, খুবই নিষ্ঠা সহকারে পালিত হয়ে আসছে। পারিবারিক সব নিয়ম মেনে দুর্গাপূজার কাজের জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারের মহিলা সদস্যরা রাত আড়াইটে বা তিনটে থেকে ঘুম ভেঙে উঠে, স্নান করে, শুদ্ধ বস্ত্রে পূজার আয়োজনে লিপ্ত হয়ে পড়েন। অতীতের নিয়ম মেনে এখনও দুর্গাপূজোতে দেবীকে তিন কুইন্টাল চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। সেই চালের নৈবেদ্যর উপরে বসানো হয় ‘নবাত’। ‘নবাত’ হল বড় আকৃতির নারকেল নাড়ু, যার ওজন হল প্রায় এক কিলোগ্রাম। এছাড়াও মাকে নৈবেদ্যর সঙ্গে দেবীকে নিবেদন করা হয় ভোজন সাজ। চাল, সব্জি, ডাল, মশলা সাজিয়ে দেবীকে অর্ঘ্য হিসাবে নিবেদন করা হয়। পূজোর মধ্যে প্রতিদিনই চলে আত্মীয়স্বজন, আমন্ত্রিত ও প্রতিবেশীদের জন্য পংক্তি ভোজন। অতীতের নিয়ম মেনে পূজার মধ্যে একদিন আয়োজিত হয় দরিদ্র নারায়ণ সেবা। গ্রামের মানুষজন এসে পংক্তিভোজনে অংশগ্রহণ করেন। অতীতে এক সময়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ আসতেন ঘোষ পরিবারের পংক্তি ভোজনে। এখন সেই সংখ্যা প্রায় হাজার খানেক।  

পাণ্ডুয়ার ঘোষ পরিবারের দুর্গোৎসবের আরেক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সাঁওতালি নাচ। সাঁওতাল সম্প্রদায়ভুক্ত পুরুষেরা নানান পোশাকে সেজে দুর্গাদেবীর সম্মুখে বিভিন্ন প্রকার বাদ্যযন্ত্র সহযোগে নৃত্য পরিবেশন করেন এবং পরিশেষে বকশিশ নিয়ে ফিরে যান।  পূজার ব্যবস্থার জন্য ঘোষ পরিবারের ঠাকুরের নামে অনেক জমি আছে এবং সেখান থেকেই পূজার যাবতীয় খরচ খরচা উঠে আসে। দশমীর দিন একটু দূরে গ্রামের প্রান্তে বসে মোরগ লড়াইয়ের প্রতিযোগীতা। এটিও প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বর্তমানেও চালু রয়েছে। আশেপাশের গ্রাম হইতে আদিবাসী মানুষজন তাঁদের মোরগ নিয়ে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে আসেন। তাঁদের বিশ্বাস এতে নাকি অশুভ শক্তির বিনাশ হয়। আজ পর্যন্ত ঘোষ বাড়ির দুর্গাপূজা কে কেন্দ্র করে চলে আসা এই মোরগের লড়াই বন্ধ হয় নি।

এই পূজাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের বিশ পঁচিশটি গ্রামে সাড়া পড়ে যায়। ঠাকুর দেখার ভিড় লেগেই থাকে। এখন পাণ্ডুয়া এলাকায় বারোয়ারি পূজার সংখ্যা অনেক বেড়েছে, তবুও এই বাড়ির দুর্গাপূজার ঐতিহ্য ও আকর্ষণ আজও অম্লান। বিজয়ার দিন গ্রামের তালপুকুরের নিকট রংমশালের আলোয় আলোকিত হইয়া ওঠে। সেই সঙ্গে শোনা যায় হাউই বাজীর শব্দ। হাজার হাজার রংমশালের আলোয় সম্পূর্ণ হয় দেবীর বিসর্জন। 

বিজ্ঞাপনAdi Mohini Mohan Kanjilal
15 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

Durga Pujo: দুর্গাপুজো বনাম নবরাত্রি—একই দেবী, দুই ভিন্ন উৎসব?
উমাকথা

Durga Pujo: দুর্গাপুজো বনাম নবরাত্রি—একই দেবী, দুই ভিন্ন উৎসব?

বাঙালির দুর্গাপুজো ও ভারতের নবরাত্রি একই দেবীশক্তিকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও, দু’টির আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। বাংলায় উমার ঘরে ফেরার আবেগ, প্যান্ডেল ও বিসর্জন যেমন উৎসবের মূল আকর্ষণ, তেমনই নবরাত্রিতে নবদুর্গার আরাধনা, গরবা-ডান্ডিয়া ও দশেরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

০১ অক্টো ২০২৬, ১১:০৭ এএম · 2 মিনিট
Durga puja 2026: রাজার পথ আটকে এসেছিলেন মা দুর্গা!
উমাকথা

Durga puja 2026: রাজার পথ আটকে এসেছিলেন মা দুর্গা!

বর্ধমানের সোঁয়াই গ্রামে মুখোপাধ্যায় পরিবারের ৩২৫ বছরেরও বেশি পুরনো দুর্গাপুজো আজও প্রাচীন রীতি, লোককথা ও পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে পালিত হয়। একচালার প্রতিমা, কাঠামো পুনর্ব্যবহারের রীতি, মহাপ্রদীপ এবং গ্রামবাসীকে ভোগ খাওয়ানো থেকে মোষ বলি—বহু প্রাচীন প্রথায় অনন্য এই বনেদি পুজো।

২৯ সেপ্টে ২০২৬, ১২:১৮ পিএম · 2 মিনিট
দু’হাতেই দুর্গার আরাধনা, সাত পাক ঘুরে বিসর্জন! ৩০০ বছরের বুড়িমার পুজোয় আজও অটুট হিন্দু-মুসলিমের বন্ধন
উমাকথা

দু’হাতেই দুর্গার আরাধনা, সাত পাক ঘুরে বিসর্জন! ৩০০ বছরের বুড়িমার পুজোয় আজও অটুট হ...

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বংশধর শিবচন্দ্র রায়ের হাত ধরে শুরু হয় এই পুজো। এই পুজো সবার কাছে বুড়িমার বা বুড়োমার দালানের পুজো হিসেবে পরিচিত। এখানে মায়ের রূপও বেশ আলাদা। দশটি হাতের বদলে রয়েছে মাত্র দু’টি হাত। বাকি আটটি হাত ঢাকা থাকে শাড়ির ভাঁজে। দেবীর বাহনও আলাদা। বুড়িমার বাহন দেখতে আদতে ঘোড়া মনে হলেও, পিছনের অংশ সিংহরূপী। জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে যায় শারদোৎসবের। মহাষ্টমীর প্রায় ১৫ দিন আগে হয় বোধন।

২৬ সেপ্টে ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম · 2 মিনিট
প্রচলিত দুর্গা প্রতিমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পুরুলিয়ার কৃষ্ণবর্ণ মহিষাসুরমর্দিনী
উমাকথা

প্রচলিত দুর্গা প্রতিমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পুরুলিয়ার কৃষ্ণবর্ণ মহিষাসুরমর্দিনী

নিউজ ডেস্ক: কলকাতার শারদোৎসব মানেই বনেদিয়ানার পাশাপাশি থিম পুজোর ভিড়, আলোর ঝলকানি আর আড়ম্বরপূর্ণ রাজপথ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বহু অঞ্চলে দুর্গাৎসব এই চকমকে আধুনিকতার থেকে বহু দূরে। রাঢ় বাংলার নিভৃতে প্রকৃতির কোলে এখনও ম...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.