প্রতিবাদ বনাম প্রতিবাদ। মঙ্গলবার তার জেরে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সংসদের মকরদ্বারের সামনে। এক দিকে বিরোধী সাংসদদের স্লোগান, অন্য দিকে এনডিএ সাংসদদের পাল্টা স্লোগান। দুই পক্ষের মাঝখানে হাত জড়িয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করতে বাধ্য হন নিরাপত্তারক্ষীরা। বিরোধীদের দাবি, দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি দমন নিয়ে সংসদে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা চেয়েছে তারা।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, আলোচনার পথে না হেঁটে ‘দ্বিচারিতা’ করছেন রাহুল গান্ধী। ঝাড়খণ্ডে, যেখানে কংগ্রেস হেমন্ত সোরেনের সরকারের শরিক, সেখানেও পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এই প্রসঙ্গ তুলে রাহুলকে নিশানা করেন বিজেপি সাংসদরা। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, বিরোধীরা সংসদের কাজ চলতে দিলে অমিত শাহ তাঁদের প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত। কিন্তু রাহুলের পাল্টা বক্তব্য, শাহের ‘মতামত’ শুনতে তাঁরা আগ্রহী নন। বরং দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি অভিযানের নেপথ্যে কারা ছিলেন, তার স্পষ্ট উত্তরই চান।
এ দিকে লোকসভায় অচলাবস্থা কাটেনি। বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে এসে স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘সরকার জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে প্রস্তুত। আপনাদের মূল দাবিও মেনে নেওয়া হয়েছে। অন্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।’’ কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বিজেপি সাংসদ মুকেশ দলাল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন। সেই সময় প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সংসদে পৌঁছলে দু’পক্ষের মধ্যে কথার লড়াইও হয়। বিজেপি সাংসদকে প্রিয়ঙ্কা মনে করিয়ে দেন, রাহুল ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেছেন। পাল্টা তাঁকে বলা হয়, ‘‘ঝাড়খণ্ডে যান। সেখানে কেন যাননি?’’
সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের প্রিয়ঙ্কা বলেন, সরকার পক্ষের সাংসদদেরও বিক্ষোভে নামতে বাধ্য করেছে বিরোধীরা। তাঁর কথায়, ‘‘এই প্রথম আমরা দেখছি, সরকার পক্ষের সাংসদরা বিক্ষোভ করছেন। আমরা তাঁদের এই জায়গায় আসতে বাধ্য করেছি। এ বার তাঁরা সামনে এসে বিবৃতি দিন।’’ অন্য দিকে কংগ্রেস সাংসদ মানিকম টাগোর ‘নিখোঁজ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে উপস্থিত হয়ে জবাব দেওয়ার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, অমিত শাহ সংসদ চত্বরেই রয়েছেন। অথচ ইচ্ছাকৃতভাবে অধিবেশনে আসছেন না। দিল্লি পুলিশের দায়িত্ব কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন।
ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে পড়ুয়াদের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠি আর জলকামান ব্যবহার করেছিল। এ দিকে সেই ঘটনাকে সামনে রেখেই বিজেপির পাল্টা প্রচার। অনুরাগ ঠাকুরের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের যুবকদের উপর অত্যাচারের জবাব দিতে হবে। যদিও রাহুল গান্ধী সোমবারই ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ পড়ুয়াদের অধিকার এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও বলেন, শিক্ষা, পরীক্ষা এবং রামমন্দির, এই বিষয়গুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, ঝাড়খণ্ডের সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ ‘আলোচনা’। ফলে সংসদে শাসক-বিরোধী চাপানউতোরের মধ্যেই শেষ সপ্তাহেও অচলাবস্থা কাটার লক্ষণ নেই।