নয়াদিল্লি: বয়স হয়েছে, কিন্তু শেখার ইচ্ছে কমেনি। বরং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে রীতিমতো পড়াশোনায় নেমে পড়লেন এক নানি। নাতনির কাছে নিলেন ‘Blinkit টিউশন’। কী ভাবে অ্যাপ খুলতে হয়, কী ভাবে পছন্দের জিনিস খুঁজতে হয়, কার্টে পণ্য যোগ করতে হয়, অর্ডার দিতে হয়—এক এক করে সব শিখলেন। আর শেখার সময়? একেবারে স্কুলের পড়ুয়ার মতো খাতায় লিখে রাখলেন প্রতিটি ধাপ। সেই ভিডিয়োই এখন নেটপাড়ায় হাসি-আনন্দের পাশাপাশি প্রশংসা কুড়োচ্ছে।
ডিজিটাল ক্রিয়েটর সানিয়া হুসেন তাঁর নানিকে কুইক-কমার্স অ্যাপ ব্যবহার শেখানোর ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। সাধারণত যে কাজটি আজকের প্রজন্ম চোখের পলকে করে ফেলে, সেটিই নানির কাছে ছিল একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু শেখার ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখতে নারাজ তিনি। নাতনির কাছ থেকে মন দিয়ে শুনছেন, বুঝছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে রাখছেন।
প্রথমে শেখানো হল অ্যাপ কী ভাবে খুলতে হয়। তার পর পছন্দের জিনিস খুঁজতে হবে কী ভাবে, সেটিও দেখানো হল। শুধু টাইপ করে নয়, মাইক্রোফোনে কথা বলেও যে পণ্য খোঁজা যায়, সেই কৌশলও রপ্ত করলেন নানি। ধীরে ধীরে অ্যাপের বিভিন্ন অপশন তাঁর কাছে পরিচিত হতে শুরু করল।
এর পর শুরু হল আসল কেনাকাটা। কার্টে একে একে ঢুকল শ্যাম্পু, Nescafe, Hershey’s chocolate syrup, আধ কিলো Amul butter এবং একটি air fryer। কোন জিনিস কোথায়, কত দাম, কার্টে কী ভাবে রাখতে হবে—সব কিছুই নাতনির কাছ থেকে বুঝে নিলেন তিনি। তারপর এল অর্ডার দেওয়ার পালা।
সবচেয়ে মজার বিষয়, অর্ডার পৌঁছতে কত সময় লাগবে, সেটিও নানি খাতায় লিখে রাখলেন। অ্যাপে দেখাচ্ছিল, মাত্র 15 মিনিটের মধ্যে জিনিস পৌঁছে যাবে। প্রযুক্তির এই দ্রুততার হিসাবটিও বাদ গেল না তাঁর নোটবইয়ে। অর্ডার দেওয়ার পর অপেক্ষা। কিছুক্ষণ পরেই দরজায় কড়া নাড়ল ডেলিভারি কর্মী। হাতে সেই বহু প্রতীক্ষিত air fryer। নতুন শেখা প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষাতেই সাফল্য! আনন্দে নানি বলে উঠলেন, “আসছে! Air fryer এসে গিয়েছে। Technology!” সেই উচ্ছ্বাসের মুহূর্তটিই ভিডিয়োটিকে আরও মজার করে তুলেছে।
ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনদের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নানির খাতায় নোট করার অভ্যাস। কেউ তাঁকে ‘Student of the Year’ বলেছেন, কেউ আবার মজার ছলে জানিয়েছেন, তাঁর নিজেরও এমন করে অনলাইন শপিং শেখা দরকার। Blinkit-এর তরফেও নানির শেখার আগ্রহের প্রশংসা করা হয়েছে।
তবে নিছক মজার ভিডিয়ো হিসেবেই আটকে নেই ঘটনাটি। এর মধ্যে রয়েছে দুই প্রজন্মের এক সুন্দর সম্পর্কের ছবিও। যে প্রযুক্তি অনেকের কাছে প্রতিদিনের অভ্যাস, সেটিই কারও কাছে নতুন জগৎ। আর সেই জগতে প্রবেশের দরজা খুলে দিচ্ছে পরের প্রজন্ম।
স্মার্টফোন, অ্যাপ, অনলাইন পেমেন্ট কিংবা কুইক-কমার্স—প্রযুক্তির এই দৌড়ে বয়স কখনও কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই নানি যেন উল্টো ছবিটাই দেখালেন। দরকার শুধু একটু ধৈর্য, পাশে একজন আপন মানুষ এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। তারপর? 15 মিনিটে দরজায় শুধু air fryer নয়, পৌঁছে যেতে পারে আত্মবিশ্বাসও।
