নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল CBI। বিশেষ সিবিআই আদালতে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে। এই মামলায় আগেই জামিন পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। আদালত জামিন দেওয়ার সময় একাধিক শর্ত দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল, সপ্তাহে একদিন করে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর পার্থ হাজিরা এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারও আদালতে হাজির ছিলেন না প্রাক্তন মন্ত্রী। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জামিনের শর্ত হিসেবে আদালত যে নিয়ম বেঁধে দিয়েছিল, তা মেনে চল বাধ্যতামূলক। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে সেই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বিশেষ সিবিআই আদালতের নজরে এনেছে তদন্তকারী সংস্থা। যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীর দাবি, তিনি অসুস্থ এবং মাঝেমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হন। তাই নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে পারছেন না। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এর আগেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মামলার তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
এখন আদালতে সিবিআইয়ের জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
২০২২ সালে ২২ জুলাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। দীর্ঘ সময় তাঁকে জেরার পর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরে সিবিআইও তাঁকে হেফাজতে নেয়। একাধিক নিয়োগ মামলায় নাম জড়ায় তাঁর। সেই সময় তিনি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল।
পার্থর পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি উদ্ধার হয়েছিল। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর গতবছর নভেম্বর মাসে শর্তসাপেক্ষে জেলমুক্তি পান পার্থ। শর্ত ছিল, মামলার শুনানি চলাকালীন তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু সেই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে পার্থর বিরুদ্ধে। এখন দেখার, পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের পার্থর জামিন বাতিল করে ফের তাঁকে জেলে পাঠানো হয় কিনা।