জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় কি এবার আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন? এখন তার উত্তর মেলা কঠিন। তবে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক বৈঠকে উঠে এসেছে এমন একাধিক পরিকল্পনা যা বাস্তবায়িত হলে, আগামী কয়েক মাসে পাহাড়ের পর্যটন ব্যবস্থায় বদল দেখা যেতে পারে। রোপওয়ে থেকে হোমস্টে যানজট থেকে বর্জ্য পদার্থ প্রায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন করে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে।
পাহাড়ের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আগামী ছয় মাসের রূপরেখা তৈরি করতে শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। জিটিএ এবং পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী বিশাল নামা, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং এলাকার প্রশাসনিক আধিকারিক, কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ডিএম-সহ জিটিএ-র কর্তারাও। বৈঠকে পাহাড়ের পর্যটন পরিকাঠামো, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, হোমস্টে একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, দুধিয়া, মংপু, কার্শিয়াং-সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকাকে এলাকা ভিত্তিকভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। দার্জিলিংকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও উন্নত করার পরিকল্পনারও প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আগামী দিনে টি ফেস্টিভ্যাল, ভিন্টেজ কার র্যালি, ওয়াকাথন, রিভার ক্রাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং-সহ একাধিক ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড়ের পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে বিশেষ উৎসবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এক ছাতার তলায় তুলে ধরতে বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে, পর্যটনের পাশাপাশি পাহাড়ের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দার্জিলিংয়ের যানজট কমাতে রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মহাকাল মন্দির, সেবকের কালীমন্দির, কালিঝোরার পুরনো বাংলো এবং মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলির পরিকাঠামো ও পর্যটন আকর্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়াও, হোমস্টে নিয়েও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় অধিকাংশ হোমস্টে নথিভুক্ত হলেও দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো এলাকায় এখনও বহু হোমস্টে রেজিস্ট্রেশনের বাইরে রয়েছে। পাশাপাশি, পর্যটকদের পরিচয়পত্র ছাড়াই কিছু হোমস্টেতে থাকার ব্যবস্থা করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হোমস্টে ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করতে এবার বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে পর্যটন দপ্তর। নতুন ব্যবস্থায় হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন, রিনিউয়াল এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করা হবে। যারা নতুন হোমস্টে তৈরি করতে চান, তারাও সরকারি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি, পর্যটন শিল্পের নীতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ চলছে। হোমস্টে পলিসি এবং ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি পলিসি নিয়েও ইতিমধ্যেই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুজোতে ও পাহাড়কে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ের চকবাজার ও ম্যাল রোডে আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পর্যটন দফতরের সম্পত্তি উন্নয়নের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ ৫৭ কোটি টাকা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান, রাজস্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটকদের পরিষেবা,এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে আগামী ছয় মাসের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
