রাজ্যের সবচেয়ে গভীর অরণ্য সুন্দরবন। তাই সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ সুন্দরীও বলা হয়ে থাকে। সেই ম্যানগ্রোভেই দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। বাঘের সামনে প্লাস্টিকের বোতল। আর সেই বোতল দেখে কৌতূহলের সঙ্গে বোতলটি নাড়াচাড়া করছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ঝড়ের গতিতে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল হয়েছে এই ভিডিও। আর তারপর থেকেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বর্জে ক্রমশ বিপদে পড়ছে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র।
সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র যেমন ঝড়খালি, সজনেখালি সহ বিভিন্ন জায়গায় সারা বছর পর্যটকদের ঢল নামে। অনেকেই অসচেতনভাবে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য নদী-খাঁড়িতে ফেলে দিচ্ছেন। জোয়ারের টানে সেই প্লাস্টিক ভেসে গিয়ে পৌঁছচ্ছে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ধারে, এমনকি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলেও। তাতেই বন্যপ্রাণী ও বনের ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুযায়ী সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে 'প্লাস্টিক ফ্রি জোন' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা একেবারেই অন্যরকম। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যের উপস্থিতি চোখে পড়ছে বলেই অভিযোগ পরিবেশপ্রেমীদের।
পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের ১০২-টি দ্বীপের মধ্যে ৫৪-টিতে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের বসবাস। তাই শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা সম্ভব। তা না হলে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ক্রমশই বিপদের মুখে পড়বে। জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইতিপূর্বেও সুন্দরবনে মৃত ডলফিন, কচ্ছপ ও কুমিরের পেট থেকে ম্যাক্রো ও মাইক্রো প্লাস্টিক উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও মাতলা নদীর জলে সীসা, দস্তা ও তামার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতির অভিযোগও সামনে এসেছে। তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে সুন্দরবনের সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে। বিপদের মধ্যে পরবে বন্যপ্রাণীরা।