আইএসআইয়ের মদতে নাশকতার ছক ভারতে। অসম পুলিশের স্পেশাল টাচ ফোর্সের অভিযানে গ্রেপ্তার তিন সন্দেহভাজন। ধৃতরা হলেন ধুবড়ির আকরামুল ইসলাম (২৬), চিরাংয়ের আমিনুর রহমান (২২) এবং বরপেটার আবদুল হুসেন (৫৪)। পাকিস্তান-ভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (এসবিএন)-এর হয়ে কাজ করছিল তারা বলে দাবি পুলিশের। এই চক্রের সদস্যরা ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ, নতুন সদস্য নিয়োগ, অনলাইনে উগ্রবাদ ছড়ানো, গুপ্তচরবৃত্তি এবং বেআইনি অস্ত্র সংগ্রহের মতো কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে নির্দেশ নিয়ে কাজ করত এই নেটওয়ার্ক। আইএসআই-এর সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। পাক ভিত্তিক এই স্লিপার সেল ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, সদস্য নিয়োগ, অনলাইনে উগ্রবাদ ছড়ানো, ভারত-বিরোধী প্রচার, রসদ সরবরাহ, গুপ্তচরবৃত্তি, অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহের কাজে লিপ্ত ছিল এরা এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের।
এই নেটওয়ার্কের খালিস্তান আর্মড ফোর্স, পাঞ্জাব সভরেনিটি অ্যালায়েন্স, শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড, ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি, শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান-সহ বেশ কয়েকটি চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমের কাজ করত। পাকিস্তানের আইএসআই-এর সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল এদের। পাকিস্তান-ভিত্তিক ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোর কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে কাজ চালাত এই স্লিপার সেল। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ২৪ মে পাঞ্জাব পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করেছিল তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের ২২ মে নলহাটি জেলায় একটি মামলার তদন্ত চলাকালীন প্রথম এই নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের সূত্র মেলে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, ডেবিট কার্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি। বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।