নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে কতটা পৌঁছচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার দিল্লির ‘সেবাতীর্থ’-এ গুরুত্বপূর্ণ চিন্তন বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাজের পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মন্ত্রীদের কাজের কার্যকর পর্যালোচনা। এজন্য উপস্থিত মন্ত্রীদের মোট আটটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। বিভিন্ন গ্রুপে বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আগামী দিনে কেন্দ্র সরকার কী ধরনের নতুন প্রকল্প বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, তা নিয়েও মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি বিভিন্ন টেবিলে গিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন এবং তাঁদের মতামত শোনেন। মন্ত্রকগুলির কাজের অগ্রগতি, বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোথায় আরও গতি আনা প্রয়োজন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে কোনওভাবেই শেষ প্রান্তিকের উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছতে গিয়ে আটকে না যায়, তা নিশ্চিত করা। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী দিনের প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেক মন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষেত্রের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোথায় সমস্যা রয়েছে এবং কীভাবে সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনার আওতায় আসে।
বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন বা নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু চলতি প্রকল্পের পর্যালোচনা নয়, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রেও এই বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে, বৈঠকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রশাসনিক কার্যকারিতা, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণমূলক পরিষেবার সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সব মিলিয়ে, মন্ত্রীদের আটটি গ্রুপে ভাগ করে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশাসনের কাজের গতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন বলেই বৈঠকের বিভিন্ন দিক থেকে স্পষ্ট হচ্ছে।
