নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানীতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অনুমতি ছাড়া মিছিল বের করায় বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করা হয়।
দলের দাবি, প্রায় ৮ হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সকাল থেকেই সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু হলেও কিছুদূর এগোতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। রাজধানীতে আগে থেকেই ১৬৩ ধারা জারি থাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত এবং মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নতুন দিল্লি এলাকাকে ১৫টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে ছিলেন স্পেশাল কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৫টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও দাঙ্গা দমনের ‘বজ্র’ গাড়িও।
বিজয় চক, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, ইন্ডিয়া গেট, রাষ্ট্রপতি ভবন-সহ একাধিক উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় যেকোনও ধরনের বিক্ষোভের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিয়ম ভাঙলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবারের সংসদ অভিযানে তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রতিনিধিত্ব করেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো।
গীতাঞ্জলি জানান, অনশন ভাঙার জন্য সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রের কাছে তিনটি শর্ত রেখেছেন। তাঁর কথায়, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং সংসদে এই ইস্যু তোলার প্রতিশ্রুতি মিললে সোনম অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন।
নিট কেলেঙ্কারি ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদের আবহের মধ্যেই সংসদ অভিযানে পুলিশি বাধা ও লাঠিচার্জ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।




