স্পোর্টস ডেস্ক: ৩৩ বছর বয়সে ফুটবলকে বিদায় জানালেন ভারতীয় ফুটবলার প্রবীর দাস। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের পেশাদার কেরিয়ারের পর চোট ও শারীরিক সমস্যার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন তিনি। অবসরের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আবেগঘন হয়ে উঠল প্রবীর দাস ও অভিনেত্রী গীতশ্রী রায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও। গত আড়াই বছর ধরে কঠিন সময়ের মধ্যে প্রবীরের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন গীতশ্রী।
মাত্র ৩৩ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রবীর। একাধিক চোটের পাশাপাশি স্নায়ুর সমস্যাও ভুগিয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত শারীরিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এই ফুটবলার।
অবসরের দিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রবীর তাঁর কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত দুই থেকে আড়াই বছর তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। বারবার চোট, শারীরিক যন্ত্রণা এবং মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেই সময়ে গীতশ্রী তাঁর পাশে ছিলেন বলে জানান প্রবীর।
প্রবীরের কথায়, ভালো সময়ের পাশাপাশি খারাপ সময়েও যিনি হাত শক্ত করে ধরে রাখেন, তিনিই প্রকৃত সঙ্গী। জীবনের এই কঠিন অধ্যায়ে গীতশ্রীর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
প্রবীরের অবসরের খবরের পর গীতশ্রীও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ৩৩ বছর বয়সে অবসর নেওয়া সত্যিই খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। তবে জীবনের অর্থ শুধু ফুটবল নয়, কখনও কখনও নতুন অধ্যায়ও শুরু করতে হয়। প্রবীরের দীর্ঘ কেরিয়ারের প্রশংসা করে তিনি জানান, মাঠে প্রবীর সবসময় রাজার মতো খেলেছেন এবং রাজার মতোই বিদায় নিয়েছেন।
শেষে খানিকটা হালকা সুরে গীতশ্রী লেখেন, ‘হ্যাপি রিটায়ারমেন্ট, মাই চ্যাম্প।’ তাঁর কথায়, অনেক ফুটবল হয়েছে, এবার দু’জনে একসঙ্গে সময় কাটানোর পালা।
তবে প্রবীরের অবসরের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ শারীরিক লড়াই। জানা যায়, গত বছর থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে আচমকাই স্নায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত হন তিনি। তাঁর বাঁ দিকের কাঁধ অসাড় হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতেও দলের সঙ্গে সফরে গিয়েছিলেন প্রবীর। পরে ভারতীয় ফুটবলার সুনীল ছেত্রীর পরামর্শে বেঙ্গালুরুর চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
এরপর তাঁর হাঁটুতেও অস্ত্রোপচার হয়। দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্বের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এই সময়েও গীতশ্রী পাশে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি মুম্বই গিয়ে প্রবীরের দেখাশোনা করেছিলেন।
বর্তমানে প্রবীর অনেকটাই সুস্থ বলে জানা গেলেও পেশাদার ফুটবলে ফেরার মতো শারীরিক পরিস্থিতিতে আর নেই তিনি। তাই মাত্র ৩৩ বছরেই তাঁর ১৫ বছরের ফুটবলজীবনের ইতি ঘটল।
ভারতীয় ফুটবলে তাঁর কেরিয়ার এবার অতীত। সামনে অবশ্য অপেক্ষা করছে জীবনের নতুন অধ্যায়। মাঠের চেনা জার্সি, গোলের লড়াই এবং প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ছেড়ে এবার নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন প্রবীর আর সেই নতুন যাত্রায় তাঁর পাশে থাকছেন গীতশ্রী।
